প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫, ৯:২৬ AM আপডেট: ২৬.০৬.২০২৫ ৯:৩৩ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে ‘ভালোবাসি লিসা’ পোস্ট দিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সাদ আহমেদ নামে এক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৫ জুন) রাত সোয়া ১১টার দিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের চার তলার ছাদ থেকে তিনি নিচে ঝাঁপ দেন।
আহত শিক্ষার্থীর নাম সাদ আহমেদ। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার সময় তিনি উচ্চস্বরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলেছিলেন। এতে তার দুই পা ভেঙে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাদ আহমেদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। তিনি কুরআনের একজন হাফেজ। আত্মহত্যার চেষ্টার আগে তিনি ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি মাত্রই ছাদে উঠেছিলাম, ৩ তলায় উঠার পরে একজন জোরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এবং পরক্ষণেই হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। তারপর ওখান থেকে দৌড়ে এসে দেখি একজন মাটিতে পড়ে আছে। তার পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দুই পাই ভেঙে গেছে মনে হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে রামেকে নিয়ে যায়।
প্রেমিকা লিসাকে উদ্দেশ্য করে পোস্টে সাদ আহমেদ লেখেন, লিসা তুমি জানতা তোমাকে আমি কত্তটা ভালোবাসি তবুও কেন এমন করলে? সব জায়গায় সেইম ইফোর্ট সেইম ডায়ালগ কীভাবে পারো লিসা? মানুষ এতটা সাইকো কীভাবে হয়? তোমাকে তো বলেই ছিলাম আমার সঙ্গে চিট করলে কিন্তু আমার বন্ধু ফিরোজের মতো আমাকেও মরা ছাড়া উপায় থাকবে না। এত্ত করে বুঝাইলাম তাও বুঝলে না।
আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন,‘সরি আম্মু পারলে মাফ করে দিও। তুমি আমার আম্মু ছিলা, তুমি আমার আব্বু ছিলা। আর আমার বাপ একটা জানোয়ার।’
অন্য একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সময়ের অভাব আর কষ্টের কারণে সব ভালোভাবে বলতে পারলাম না। আর হা আমার খুব ইচ্ছা আমার কবর হবে মসজিদের পাশে। যেখান থেকে আমি ইমামের তেলাওয়াত শুনতে পারবো। আর প্লিজ কেউ একটু আম্মুক দেইখেন ফাইনানসিয়ালি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাই এবং তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাই। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাইনি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম