
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ জুন)। সকাল ১০ টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হবে লিখিত পরীক্ষা, যা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। এবার অংশগ্রহণ করছে ১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী। তবে এরই মধ্যে আবারও দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস রোধে এক ডজনের বেশি নতুন পদক্ষেপ, কেন্দ্রে নকল ঠেকাতে ব্যাপক রদবদল এবং ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে পারবেন- এমনটা আশা করছেন শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত। এই পরীক্ষা ঘিরে নানা ধরনের সংকট ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হলেও বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির কালবেলাকে বলেন, ‘এবারের পরীক্ষাটি আগের পরিক্ষারগুলোর চেয়ে বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে করোনা-ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠীত হতে যাচ্ছে। এজন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে বোর্ডের একাধিক টিম কাজ করবে।
বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট থানার ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশ্নপত্র সঠিক সেট ও সংখ্যায় যাচাই করতে বলা হয়েছে। অব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের সেট কোনো অবস্থাতেই খোলা যাবে না এবং অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে ফেরত পাঠাতে হবে। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পুলিশি পাহারায় জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রের ব্যাপক রদবদল ও ভেন্যু বাতিল:শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানিয়েছেন, শিক্ষা বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের যোগসাজশে দেশব্যাপী শক্তিশালী চক্রকে ভাঙতে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা বোর্ড। অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করতে সব বোর্ড পরীক্ষার কেন্দ্রে ব্যাপক রদবদলের পাশাপাশি চলতি বছরে ৯ টি শিক্ষা বোর্ডের ২৯৫ টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৫০ টি ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করেছে কুমিল্লা বোর্ড। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বাতিল করেছে ৭০ টি।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার কালবেলাকে বলেন, প্রথম ধাপে সারা দেশে অনৈতিক সুবিধার ‘বাতিঘর’ হিসেবে ভেন্যু কেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যাপক রদবদল করেছি। আশা করছি, ভালো একটি পরীক্ষা হবে।
করোনা-ডেঙ্গু নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা: রীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করা, প্রতিটি কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে মেডিকেল টিম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কেন্দ্রের সামনে যেন জটলা না থাকে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেন্দ্রের অভ্যন্তর এবং আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরীক্ষা শুরুর আগে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের ৩৩ নির্দেশনা:পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি ৩৩ ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩ দিন আগে ট্রেজারিতে ট্রাঙ্কে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট সঠিকভাবে সংরক্ষণ, ট্রেজারি অফিসার, কেন্দ্র সচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উপজেলা সদরের বাইরে প্রশ্নপত্রের ট্রাঙ্ক না রাখা। এছাড়াও আর বেশ কিছু দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ হাজার:চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। গত বছরের তুলনায় এবার ৮১ হাজার ৮৮২ জন পরীক্ষার্থী কমেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম