প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫, ৯:৪৩ AM আপডেট: ২৫.০৬.২০২৫ ১১:৪৩ এএম

সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার গুজবের পর ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল ক্বানিকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। সম্প্রতি তেহরানে একটি জনসমাবেশে তার সরাসরি উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও ইরানের মিত্র গোষ্ঠী এবং হুতি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এর মাধ্যমে ক্বানিকে ঘিরে থাকা মৃত্যুর গুজব পুরোপুরি নাকচ হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে চালানো বিমান হামলায় কুদস প্রধান ইসমাইল ক্বানি নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন
২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ইসমাইল ক্বানি কুদস ফোর্সের দায়িত্ব নেন। জনসমাবেশে তার উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেও ইরানের সামরিক নেতৃত্ব এখনো অটুট রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির অস্থির বাস্তবতাসম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে একটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধবিরতির শুরুতেই একাধিকবার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দু’পক্ষকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ইসরায়েলের কিছু কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করেন।
ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হুঁশিয়ার করে জানিয়েছে, “ইসরায়েল যদি পুনরায় আক্রমণ চালায়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পারমাণবিক কার্যক্রমে হামলার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তেহরান এই হামলাকে প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক চিত্র
ইরান জানিয়েছে, ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় তাদের অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে ১৩ শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজারের বেশি। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৮ জন।
ইসমাইল ক্বানির জনসমাবেশে উপস্থিতি ইরানের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত বার্তা বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এই বার্তা স্পষ্ট: নেতৃত্ব অটুট, প্রতিরোধ চলবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর