প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন, ২০২৫, ৯:৪২ পিএম

ভোগান্তির শিকার কয়েক শতাধিক সেবা গ্রহীতা।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তির শিকার কয়েক শতাধিক সেবা গ্রহীতা।
আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভৈরব বিদ্যুৎ অফিস। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে ৪ ঘণ্টা পর পুনরায় হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান উপ সহকারী প্রকৌশলী সামছুল আলম।
জানা যায়, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৩ লক্ষ টাকা এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারের ১৮ লক্ষ টাকাসহ মোট ৪১ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে। ফলে আজ সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎ সুযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ অফিস। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে বহিঃ বিভাগে আসা শত শত রোগীসহ হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ হাসপাতালের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম। অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে হাসপপাতালটি। রোগীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকারা গরমে হাঁসফাঁস শুরু করেন। সমস্যায় পড়েন সিজার ও শ্বাসকষ্টের রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় গর্ভবর্তীদের অপারেশন করা যাচ্ছিল না। নেবুলাইজার নিতে না পারায় শ্বাসকষ্টের রোগীদের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি এমন কয়েকজন বলেন, “বকেয়ার কারণে সরকারি হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এটা খুবই লজ্জাজনক। আমরা সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসেছি। এমনিতেই নাকি এ হাসপাতালের লোকবল কম। তারপর আবার দিনে রাতে চলতে থাকে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। বিদ্যুৎ এই আছে আবার এই নেই। আগে জানতাম সাধারণ মানুষের বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইন কাটে। এখন দেখছি হাসপাতালের লাইনও কাটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারণে আজ আমরা রোগী নিয়ে অনেক কষ্ট পোহাচ্ছি।”
মেডিকেল ট্যাকনোলজিষ্ট লুৎফর রহমান বলেন, “প্রতিদিন আমাদের এখানে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসে। সকাল ১০ টা থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ল্যাবরেটরি সকল কার্যক্রম বন্ধ আছে। রোগীরা হয়রানি হচ্ছে। আমরা তাদের কোন রকম সেবা দিতে পারছি না।”
আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল করিম বলেন, “সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ল্যাবগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ। আজকে আমরা কোনো রোগীকে সেবা দিতে পারি নাই। আজকে আমাদের সিজারের শিডিউল ছিল সেটাও আজ বিপর্যয় হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালটি মূলত অকার্যকরী হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন স্যারদের সাথে যোগাযোগ করলে দুপুর ১ টার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ পাই। তারপর থেকে পুনরায় হাসপাতালের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।”
ভৈরব বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সামছুল আলম বলেন,
“হসপিটালের ২৩ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় আজ সকালে হাসপাতালের
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে
পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।”