
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পার করলেও এখনো কেন্দ্রীয় মসজিদে নেই জেনারেটর বা আইপিএসের ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে আজানের ধ্বনি শোনা যায় না বলে অভিযোগ করেছেন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। এতে সময়মতো নামাজে উপস্থিত হতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৬, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার আবেদন করা হয় কিন্তু আশানুরূপ পদক্ষেপ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যুৎ না থাকলে আজান শুনতে পায় না তারা। এছাড়া তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের নামাজ পড়তে কষ্ট হয় মুসল্লীদের। মাগরিব, এশা ও ফজর নামাজগুলো অন্ধকারের মধ্যে পড়তে হয় বলে জানান তারা।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে কথা হয় কুবির কেন্দ্রীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মাও. শওকত আলীর সাথে।
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে মুখে আজান দিতে হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের কানে আজানের আওয়াজ পৌঁছায় না। এছাড়া জেনারেটর না থাকায় তীব্র গরমের কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে কষ্ট হয়।”
শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “আমি মসজিদের সবচেয়ে কাছাকাছি ‘বিজয় ২৪’ হলে থাকি। যখন বিদ্যুৎ থাকে না তখন মসজিদের আজানের ধ্বনি শুনতে পাই না। এতে নামাজে আসতে বিভ্রান্তির স্বীকার হতে হয় আমাদের।”
আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়া মোহাম্মদ ইমন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’ হল থেকে আজানের ধ্বনি শুনা যায় না৷ এতে জামাতের সাথে নামাজ আদায় ব্যাহত হয়।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, “অনেক দিন ধরেই আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেছি। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেটা করা যাচ্ছে না। মসজিদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো চলমান আছে। আমরা ফেব্রুয়ারিতে মেয়েদের নামাজের স্থান, কার্পেট মেশিন ও জেনারেটরের জন্য একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। জেনারেটরের বিল পাস হয়েছে কিনা খোঁজ নিয়ে দেখবো। কোন বিলটা পাস হয়েছে সেটাও দেখার বিষয়। মসজিদ কমিটির কাজ হলো মসজিদের কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমরা একটি ফরওয়ার্ডিং পেপার তৈরি করি ও ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর ও রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠায়। বাকি কাজগুলো ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর করে।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, “দুই মাস আগে কেন্দ্রীয় মসজিদে জেনারেটর স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব আসে। প্রস্তাব আসার সাথে সাথেই আমি অনুমতি দিয়েছি। কারা এগুলো আটকে রেখেছে তা বলতে পারব না। এতো দিনের মধ্যে অবশ্যই জেনারেটর স্থাপন হওয়ার কথা। আমার একার পক্ষে সব দিকে নজর রাখা কঠিন। সব জায়গায় একটা না একটা সমস্যা থেকেই যায়। আমি খবর নিবো কেন জেনারেটর স্থাপন করা হয়নি।”