প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৪:০১ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) টানা ৪ মাস ধরে সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমন দীর্ঘ অচলাবস্থায় প্রায় ৬,০০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রতিদিন বাড়ছে শিক্ষার্থীদের হতাশা, উৎকণ্ঠা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা। অনিশ্চিত অবস্থা, সেশনজট, উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও মানসিক চাপে ভুগছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ বা চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কুয়েট রেজিস্ট্রারকে একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়া উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও বোনাস পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া একটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা। ওই দিন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন, যার অন্যতম ছিল তৎকালীন উপাচার্যের অপসারণ। সরকার শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে চুয়েটের অধ্যাপক হযরত আলীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষক সমিতির প্রবল বিরোধিতার মুখে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই পদত্যাগ করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে এবং একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষকরা ক্লাস শুরু না হওয়ার জন্য দায়ী করছেন বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকহীনতাকে। এক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচারের দাবি থাকলেও নতুন ভিসি নিয়োগ হলেই ক্লাস শুরু হতে পারে।’
সব মিলিয়ে, এক অদ্ভুত স্থবিরতা আর হতাশার মধ্যে দিন গুনছে কুয়েটের হাজারো শিক্ষার্থী। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই এখন তাদের একমাত্র আশার আলো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম