
কওমি মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার বিশিষ্ট মনীষী শায়খুল ইসলাম মুফতি তকি ওসমানি দা.বা. বলেছেন, ‘‘দ্বীন ও দুনিয়ার জ্ঞান আলাদা নয়—এই বিভাজন এসেছে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র থেকে। ইসলামের শুরু থেকে মাদরাসাগুলোতে সব ধরনের জ্ঞান একত্রে পড়ানো হতো। এখন সময় এসেছে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার।’’
পাকিস্তানের জামেয়া দারুল উলূম করাচির অধীনস্থ 'হেরা ফাউন্ডেশন স্কুল'-এর হিফজ সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে শিক্ষাবিদ, আলেম, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
মুফতি তকি ওসমানি বলেন, মুসলিম ইতিহাসে দারুল উলূম দেওবন্দ, আলীগড় ও নদওয়া তিনটি আলাদা শিক্ষাপ্রবাহ ছিল, যেগুলোর উৎপত্তি মূলত ইংরেজি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে। কিন্তু ইসলামি ইতিহাসে হাজার বছর ধরে ‘জামিয়াতুল কারউইয়্যিন’, ‘যাইতুনাহ’ ও ‘আযহার’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো একইসঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করে এসেছে। এ শিক্ষা ব্যবস্থায় ফিকহ, হাদিস, তাফসিরের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যাও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘‘ইংরেজদের প্রবর্তিত শিক্ষায় মুসলিম সমাজ মোল্লা ও মিস্টারে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একজন পিএইচডিধারীও এখন নামাজ-রোজার ফরজ পর্যন্ত জানেন না। আর যে আলেম এসব জানে, তাকেই আজকাল জ্ঞানবিচ্ছিন্ন বলা হয়।’’
পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থার চেতনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের মধ্যে এ ধারণা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে উন্নতি করতে হলে পশ্চিমা চিন্তা ও জীবনাচার অনুসরণ করতে হবে। অথচ আমাদের নবী (সা.) দোয়া শিখিয়েছেন—‘হে আল্লাহ! দুনিয়া যেন আমাদের জ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য না হয়।’’
দারুল উলূম করাচির 'হেরা ফাউন্ডেশন স্কুল'-এর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই প্রতিষ্ঠানে আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছি, যেখানে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখার পাশাপাশি দীনি শিক্ষা, হেফজ এবং ইসলামি মূল্যবোধ শেখানো হয়। এটা সময়ের দাবি। আমাদের ৯৯% শিক্ষার্থী যেহেতু সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ে, সেখানে দীনের সংরক্ষণে কওমি মাদরাসাগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য।’’
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দেশে এমন সার্বজনীন সমন্বিত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হোক, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী মৌলিক ধর্মীয় জ্ঞান এবং আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান উভয় শাখায় দক্ষ হয়ে গড়ে উঠবে।
ভাষান্তর: কাজী হানিফ
কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ