
সংগৃহীত ছবি
এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা দুই মাস পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল পরীক্ষার্থী।
আজ রবিবার (২২ জুন) দুপুর ১টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বোর্ডের প্রধান ফটকে অবস্থান করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে পরীক্ষা পেছানোর এই দাবি জানিয়েছেন। একই দাবিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা “সুরক্ষা না পরীক্ষা, পরীক্ষা পরীক্ষা” এ রকম বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বোর্ডের প্রধান ফটক আটকে রাখায় ওই সময় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন কাজে আসা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। তাদের অনেকে বোর্ডে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী আজ বিকেলে বলেন, “চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে প্রায় এক লাখ তিন হাজার। করোনা সংক্রমণের কথা বলে ২২-২৩ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি আন্তঃবোর্ড চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। শুধু আমরা নয়, কোনো বোর্ড এককভাবে পরীক্ষা পেছাতে পারবে না।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘অন্যদিকে শত শত অভিভাবক আমাদের ফোন করে বলেছেন, কোনো অবস্থাতে যাতে পরীক্ষা পেছানো না হয়। এখন পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।”
এর আগে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেছেন, “দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্য ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত নই। এখন পরীক্ষা নেওয়া হলে আমাদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অন্তত দুই মাস পরীক্ষা স্থগিত রেখে একটি যৌক্তিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হোক।”
উল্লেখ্য, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঢাকা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভকারীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছে, তাদের দাবিগুলো হলোঃ
১) গত কয়েক মাসে লোডশেডিং, ডেঙ্গু, বন্যা ও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে দুই থেকে তিন মাস সময় দেওয়া।
২) পরীক্ষা পদ্ধতিতে নমনীয়তা এনে এমসিকিউ ও সিকিউ মিলিয়ে যৌক্তিকভাবে পাসের সুযোগ রাখা।
৩) বোর্ডের জারি করা ৩৩ দফা নির্দেশনা বাতিল করা।