
ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহান কেন্দ্র।
রোববার (২২ জুন) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, ‘আমরা ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। আমাদের সব বিমান এখন ইরানের আকাশসীমার বাইরে নিরাপদে অবস্থান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফোর্দো স্থাপনায় পূর্ণ শক্তির বোমা হামলা চালানো হয়েছে।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে এর ফল হবে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অপূরণীয়’।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-ও আগেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে আমেরিকা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।’
ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এই হামলা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে পূর্ণমাত্রিক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।
গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
আরাঘচি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ হলেই কেবল ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরতে পারে। তবে প্রতিরক্ষাগত সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এখনই শান্তির সময়। কিন্তু যদি শান্তি স্থাপন না হয়, আমরা প্রস্তুত আছি পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম