
গণঅধিকার পরিষদের গঠনতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, কমিটি বাণিজ্য এবং একনায়কতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলে মাগুরা জেলা কমিটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন শতাধিক নেতাকর্মী।
শুক্রবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টায় মাগুরা শহরের একটি গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল মজুমদার।
তিনি জানান, গত ২ জুন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের মাগুরা জেলা শাখার ৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ওবায়দুল্লাহ বিন হাফিজারকে সভাপতি এবং মো. রাজিব মোল্যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক হন এস. এম. জুয়েল রানা।
কমিটিতে সাতজনকে সহ-সভাপতি ও আটজনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসানের স্বাক্ষরে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, “গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠনের একনায়কতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অগণতান্ত্রিক মনোভাব এবং কমিটি বাণিজ্য—এসবই আমাদের পদত্যাগের মূল কারণ। আমরা শুরু থেকেই নিজেদের অর্থায়নে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। জনগণের সামনে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়নিষ্ঠ রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।”
তারা জানান, “জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণের সময় আমরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আহত হয়েছি, জীবন বাজি রেখেছি। অথচ এখন আমরা যে সংগঠনের ছত্রছায়ায় ছিলাম, তার মধ্যেই দেখছি সেই পুরনো স্বৈরাচারী চর্চার পুনরাবৃত্তি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে একাধিকবার এসব অভিযোগ জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
নেতারা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়। সেই বিবেচনায় গণঅধিকার পরিষদ থেকে সরে দাঁড়ালেও রাজনীতির মাঠে জনগণের পক্ষে থাকবো। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে আমরা সরে যাচ্ছি না।”
তারা আরও জানান, “গণঅধিকার পরিষদের জন্মলগ্ন থেকেই নিবেদিত থেকে কাজ করেছি। কিন্তু লক্ষ্য ও কাজের মাঝে যে ফারাক তা আর অস্বীকার করা সম্ভব না। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা মানেই হচ্ছে বিবেকের সাথে প্রতারণা করা। তাই আমরা দল ছেড়ে দাঁড়িয়েছি দেশের পাশে।”
পদত্যাগকারীরা জানিয়েছেন, তারা এখনো কোনো নতুন রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত এলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ