
সংগৃহীত ছবি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হলে ‘প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাবে’- বলে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে ক্রেমলিন। একইসঙ্গে দেশটির ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়া।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আয়াতুল্লাহ খামেনিকে যদি হত্যা করা হয়, রাশিয়া তাতে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাবে।”
সেন্ট পিটার্সবার্গের কনস্ট্যানটাইন প্রাসাদে দেয়া সেই সাক্ষাৎকারে পেসকভ আরো বলেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বেই বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রের সংখ্যা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে এই সংকট আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেবে এবং উত্তেজনার এক নতুন চক্র শুরু হবে।’’
পশ্চিমা গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে ইরানের ফোরদো পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও হামলা চালাতে পারে। এই আলোচনার প্রেক্ষিতে দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যদি কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে তা ‘একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ তৈরি করবে।”
পেসকভের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের ইরানবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিকভাবে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। ট্রাম্প এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে খামেনিকে হত্যা করার বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা শুধু ইরানকে নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়া অঞ্চলকে অস্থির করে তুলবে। এমনকি এটি চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক নতুন ধরনের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
রাশিয়া বরাবরই ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে এসেছে। এখন ইসরায়েলের টানা বিমান হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপে মস্কো আশঙ্কা করছে- এই সংঘাতের ফলে তেহরানের ইসলামি সরকার পতনের মুখে পড়তে পারে, যা রাশিয়ার আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হতে পারে।