বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
পাকিস্তানকে আলিঙ্গন ট্রাম্পের: কৌশলগত ভালোবাসা, নাকি নতুন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ৮:৩২ পিএম

দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যৌথ কংগ্রেস ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চমকপ্রদ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরের অ্যাবি গেট বোমা হামলার মূল সন্দেহভাজনকে পাকিস্তান গ্রেপ্তার করেছে। “এই দানবকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করায় আমি পাকিস্তান সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই,” বলেন ট্রাম্প।

এই ঘটনার কিছুদিন পরই, গত বুধবার হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে মধ্যাহ্নভোজে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প—এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা, কারণ এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে এভাবে স্বাগত জানাননি, যিনি রাষ্ট্রপ্রধানও নন।

ট্রাম্প যাঁর দেশকে মাত্র সাত বছর আগে “মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয়” এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়দাতা বলে অভিযুক্ত করেছিলেন, সেই পাকিস্তানকেই এখন ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন অনেকদিন ধরেই প্রস্তুত হচ্ছিল এবং গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সীমিত সামরিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা এর গতিকে বাড়িয়ে দেয়।

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনীতিরই অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতার বাইরে।

ইরান-ইসরায়েল সংকটের প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প-মুনির বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা চলছে। ইসরায়েলি হামলায় চার শতাধিক লোক নিহত হয়েছে, আর ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানিরা ইরানকে ভালোভাবে চেনে, কিন্তু বর্তমানে তারা ইরান ইস্যুতে সন্তুষ্ট নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে মুনিরের ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানানো।

ট্রাম্প বলেন, “আমি যুদ্ধ থামিয়েছি। মুনির পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, মোদি ভারতের পক্ষ থেকে, এবং আরও অনেকে ছিলেন। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসা
গত এপ্রিল, কাশ্মীরে এক হামলায় ২৬ ভারতীয় নিহত হলে ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং মে মাসে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান পাল্টা জবাবে ছয়টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে। উভয় পক্ষ পরবর্তীতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় করে, যা থামে ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়।

কৌশলগত পুনরুত্থান ও পেছনের ইতিহাস
পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বহু দশকের পুরোনো। ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান ঠান্ডা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল, আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে ও পরে ৯/১১ পরবর্তী সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়েও অংশ নেয়। তবে এক সময় ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে পাওয়া যাওয়ার পর সম্পর্ক খারাপ হয়।

তবে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহী। ১০ জুন মার্কিন সেন্টকম প্রধান মাইকেল কুরিলা জানান, অ্যাবি গেট হামলার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বিনিময় কৌশল
পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য, বিরল খনিজ সম্পদ ও ক্রিপ্টো বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ‘নতুন মূল্য দিচ্ছে’ সম্পর্ক মজবুত করতে।

গণতন্ত্র বনাম সেনাশাসন
তবে এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুনিরকে আমন্ত্রণ জানানো মানে সেনাবাহিনীকেই মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে সেনাবাহিনীই রাজনীতির নিয়ন্ত্রক ছিল—আয়ুব খান, জিয়াউল হক ও পারভেজ মোশাররফের আমলে।

এই সম্পর্ক স্থায়ী না সাময়িক—তা সময়ই বলবে। অনেকের মতে, এটি হতে পারে ট্রাম্পের একটি ‘কৌশলগত প্রেম’, যা পরিস্থিতি পাল্টালেই শেষ হয়ে যাবে। তবে পাকিস্তান যদি ইরান সংকটে কার্যকর ভূমিকা নেয়, তবে সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। না হলে, এই ‘রিসেট’ হতে পারে আবারও এক অতীতের পুনরাবৃত্তি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, এপি

স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ


আরও সংবাদ   বিষয়:   সন্দেহভাজন   পাকিস্তান  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close