প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫, ৬:৫০ পিএম

২৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আইসিসির কোনো বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে প্রোটিয়ারা।
১৯৯৮ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পর এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি। বহুবার নকআউট পর্বে হোঁচট খেয়ে ‘চোকার্স’ তকমা পাওয়া দলটি এবার দেখাল আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্বশীল ক্রিকেটের দৃষ্টান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৮২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রোটিয়ারা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাত্র পাঁচ উইকেট হারিয়ে। ম্যাচের নায়ক ছিলেন এইডেন মারক্রাম, যিনি চ্যালেঞ্জিং উইকেটে ১৩৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শুরুতেই মাত্র ৬ রানে ওপেনার রায়ান রিকেলটনকে হারালেও মারক্রাম ও উইয়ান মুলডার মিলে ইনিংস সামাল দেন।
তৃতীয় দিনে মুলডার ২৭ রানে ফিরে গেলে ব্যাট হাতে নামেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েও তিনি মারক্রামের সঙ্গে ১৫৭ রানের জুটি গড়েন। বাভুমার ৬৬ রানের সাহসী ইনিংস এবং মারক্রামের শতক ম্যাচটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে নিয়ে যায়।
তবে চতুর্থ দিন সকালে নাটকীয়ভাবে ফিরে যান দুই সেট ব্যাটারই। কিন্তু কাইল ভেরেইনে ও ট্রিস্টান স্টাবস সেই চাপ সামলে দলকে কাঙ্ক্ষিত জয়ের দিকে পৌঁছে দেন।
প্রোটিয়াদের এই জয়ের পেছনে বড় অবদান কাগিসো রাবাদার। লর্ডসের ঐতিহাসিক ভেন্যুতে প্রথম ইনিংসে তিনি তুলে নেন ৫ উইকেট, মাত্র ২১২ রানে গুটিয়ে দেন অজিদের। এটি লর্ডসে তার দ্বিতীয় ফাইফার এবং চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।
অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরিয়ে দেন লড়াইয়ে—মাত্র ২৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুটিয়ে দেন ১৩৮ রানে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাবাদা-লুঙ্গি এনগিডির আঘাতে অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় ইনিংসে থেমে যায় ২০৭ রানে।
ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮২ রান—লর্ডসের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় পাওয়ার রেকর্ড।
এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—প্রমাণ করে, লম্বা অপেক্ষার পরও ফিরে আসা সম্ভব, যদি আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনা থাকে সঠিক।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ