প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫, ৮:৪৮ পিএম

ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে কি না—সেই প্রশ্ন আবারও উঠেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন।
এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে—তারা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চায় এবং এ বিষয়ে ভারতের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভারত এখনো সে বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জবাবে জসওয়াল শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না করে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি আগেও বহুবার বলেছি—আমরা একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চাই, যা দুই দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।”
রবীন্দ্র কাচারিবাড়িতে হামলার নিন্দা
ব্রিফিংয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাচারিবাড়িতে হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে রণধীর জসওয়াল বলেন, “৮ জুন সিরাজগঞ্জে কবিগুরুর পৈতৃক ভিটা ‘রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি’তে একদল উগ্র জনতা নৃশংস হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে—এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাই। এটি শুধু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতির ওপর নয়, তাঁর উদার দর্শন এবং বাংলাদেশ-ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপরও একটি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “এই হামলা একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ, যেখানে চরমপন্থীরা বাংলাদেশের সহনশীলতা ও মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।”
বিমান দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ
ব্রিফিংয়ে ভারতের গুজরাটে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাও উঠে আসে। রণধীর জসওয়াল বলেন, “আহমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ