ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর শুরুতে কেউ জীবিত নেই বলে ধারণা করা হলেও এক ঘণ্টা না যেতেই সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। বিধ্বস্ত বিমানের একজন যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীটি বিমানের ১১-এ নম্বর আসনে ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলে তাকে সাদা টি-শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় হাঁটতে দেখা যায়। তার শরীরে ধোঁয়ার দাগ ও রক্তের চিহ্ন ছিল, এবং ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি খুঁড়িয়ে হাঁটছেন—যা ইঙ্গিত করে তার পায়ে আঘাত রয়েছে।
লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়া এআই-১৭১ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ক্রু সদস্যসহ মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন।
উড্ডয়নের পর বিমানটি প্রায় ৮২৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের দিকে পড়তে শুরু করে। কন্ট্রোল টাওয়ারে ‘মেডে’ সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ওপর বিধ্বস্ত হয়। আকাশে আগুনের বিশাল গোলা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যায়।
হোস্টেলের ডাইনিং হলে সরাসরি আঘাত হানে বিমানটি, এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসাবশেষ ডাইনিং হলের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করেছে, এবং কিছু প্লেটের ওপর তখনো খাবার পড়ে ছিল—যা মুহূর্তটির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।
পুলিশপ্রধান জি এস মালিক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২০৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আরোহীদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, বিমানটি চালাচ্ছিলেন অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল, যার ফ্লাইট অভিজ্ঞতা ৮,২০০ ঘণ্টা। সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর, যিনি ১,১০০ ঘণ্টার বেশি উড়েছেন। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে তারা কন্ট্রোল টাওয়ারে ‘মেডে’ বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে
দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি ইঞ্জিনের ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা অথবা পাখির ধাক্কার ফলেও হতে পারে। বিধ্বস্ত হওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি মাত্র ১১ বছর পুরোনো ছিল এবং নিয়মিত ব্যবহৃত ও ভালো অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। এটির বিশ্লেষণ থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
আশার আলো: জীবিত যাত্রী
এই ভয়াবহতার মধ্যেই জীবিত একজন যাত্রীর খোঁজ পাওয়া গোটা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই যাত্রীকে দেখা যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপের পাশে খুঁড়িয়ে হাঁটতে। এটি অনেকের কাছেই এক অলৌকিক দৃশ্য বলে মনে হয়েছে।
এখন সবার দৃষ্টি ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর তথ্যের দিকে, যা হয়তো সামনে আনবে এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের আসল কারণ।