প্রকাশ: বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫, ৭:১১ পিএম আপডেট: ১১.০৬.২০২৫ ৮:১৯ PM

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়া ও বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ জুন) সকালে তাদের গ্রেপ্তারের পর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শতাধিক গ্রামবাসী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সোমবার বিকেলে কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে মাংস চুরির অভিযোগ তুলে প্রতিবেশীরা এক নারীকে গাছে বেঁধে মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন। পরে রাত আটটার দিকে স্থানীয়রা ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এরপর আবার তাকে টেনে হিঁচড়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। রাত ১০টার দিকে এক সালিশে তার দুটি গরু, একটি ছাগল ও স্বর্ণালংকার রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে নির্যাতিত নারী সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর বুধবার সকাল ৯টার দিকে মুক্তি খাতুন, পারভিন খাতুন ও লিপি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পরই বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা থানা ঘেরাও করেন এবং আসামিদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় থানা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার সময় কিছু মানুষ উল্লাস করছেন, কেউ কেউ নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিপন দাবি করেন, “ওই নারী আমাদের বাড়ি থেকে মাংস ও টাকা চুরি করে হাতেনাতে ধরা পড়ে। অথচ পুলিশ চোরকে বাঁচিয়ে আমাদের স্ত্রীদের ধরে এনেছে।”
অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার নারী বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে। মামলা করার পর এখন সবাই মামলা তোলার জন্য হুমকি দিচ্ছে।”
কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদ বলেন, “মামলায় শারীরিক নির্যাতন, চুল কাটা, লুটপাটসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, “আসামিদের নেওয়ার সময় বাধা দেওয়া হলেও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ