
প্রতি বছর ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন লাখো মানুষ। দেখা যায়, ৭১৪ রোগীর ওপর চালানো পরীক্ষায় ৩৬৩ জনকে পেমব্রোলিজুম্যাব দেওয়ার পর প্রচলিত চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকি ৩৫১ জনকে শুধু দেওয়া হয় প্রচলিত চিকিৎসা— টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের পর রেডিওথেরাপি অথবা মাঝে মাঝে কেমোথেরাপি। এ ছাড়া গত ২০ বছরে বদলায়নি মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা। এসব রোগীর অধিকাংশ বেঁচে থাকে না পাঁচ বছরও।
এদিকে বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের জন্য দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেছে একজন গবেষক। সম্প্রতি আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে এ সংক্রান্ত গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। যেখানে এ আবিষ্কারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে দুই দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবিষ্কৃত ইমিউনোথেরাপি ওষুধ সক্রিয় করে তোলে পেমব্রোলিজুম্যাব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে। এটি রোগীর দেহের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনকে লক্ষ্য বানিয়ে কাজ করে, যা ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সহায়তা করে থাকে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নতুন আবিষ্কৃত এই ওষুধটি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ৫ বছর পর্যন্ত ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অথচ প্রচলিত চিকিৎসার সাথে দেওয়া হলে সেটি কার্যকর করে কেবল ৩০ মাস পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ২৪টি দেশের ১৯২টি এলাকা থেকে ৭০০ রোগী। এ গবেষণা পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন বিভাগের গবেষক দল। গবেষণার সহগবেষক ও অনকোলজির অধ্যাপক ড. ডগলাস অ্যাডকিনস জানান, এই প্রথম কোনো ওষুধে এমন প্রভাব দেখা গিয়েছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ একটি সাফল্য।
ক্যানসার কিংবা ক্যানসারজনিত রোগের গবেষণা, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনকোলজি শাখা। এ ক্ষেত্রে এই বিশেষজ্ঞদের বলা হয় অনকোলজিস্ট। বিশ্বব্যাপী গবেষকরা এর মধ্যেই ওষুধটি মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের আধুনিক প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছেন।
এই ইমিউনোথেরাপি বিশেষ করে পিডি-এল১ নামের ইমিউন মার্কারের উচ্চমাত্রায় থাকলে বেশি ভালো কাজ করেছে। তবে সব ধরনের গলা ও মুখের ক্যানসার আক্রান্তদের ক্ষেত্রেই এটি রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় বা ক্যানসার কোষ ছড়ানো বন্ধ করেছে।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের বায়োলজিকাল ক্যানসার থেরাপির অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন। এই পরীক্ষায় অর্থায়ন করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এমএসডি।
তিনি বলেন, এই ইমিউনোথেরাপি যেসব রোগীর ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে বা ফিরে এসেছে, তাদের জন্য দারুণ কার্যকর। তবে এবারই প্রথমবারের মতো নতুন রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
‘ক্যানসার কোষ ছড়ানো শুরু হলে এর চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ইমিউনোথেরাপি ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। এ গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে।
কেভিন হ্যারিংটন বলেন, পরীক্ষার ফলে দেখা গিয়েছে- পেমব্রোলিজুম্যাব রোগীদের প্রচলিত চিকিৎসার তুলনায় অনেক বেশি সময় রোগমুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। শরীরে ইমিউন মার্কার বেশি রোগীদের ওপর এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
তবে এখানে একটি আশার কথা হলো— ইমিউন মার্কারের মাত্রা যাই হোক না কেন, এই ওষুধটি মাথা ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত সব রোগীর ক্ষেত্রেই চিকিৎসার ফল করেছে উন্নত।
সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি