প্রকাশ: শনিবার, ৭ জুন, ২০২৫, ৯:৫১ AM

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক সোহাগ মৃধার নিজ হাতে গড়া কোরবানির ষাঁড় ‘কালো মানিক’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে গরুটি গ্রহণ না করে খালেদা জিয়া সেটি ঈদ উপহার হিসেবে সোহাগকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে গরুটি নিজ এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকালে সোহাগ মৃধা ‘কালো মানিক’কে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গরুটি পরিবহনে ব্যবহৃত হয় তিনটি মিনি ট্রাক, সঙ্গে ছিল ব্যানার, বাজনার দল ও টি-শার্ট পরা সঙ্গীরা।
এ বিষয়ে সোহাগ মৃধা বলেন, “আমার আর কিছু চাওয়ার নেই। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া আমার উপহার গ্রহণ করেছেন এবং সেটি আবার আমাকেই উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তারেক রহমান স্যার ভিডিও কলে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, আমাকে এবং আমার ছেলেকে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোহাগ মৃধা ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং ঈদের উপহারস্বরূপ গরুটি তাদেরকেই দিয়েছেন।”
কালো মানিকের গল্প
স্থানীয়দের মাঝে ‘কালো মানিক’ নামেই পরিচিত গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ, দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। কুচকুচে কালো রঙের গরুটিকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। জানা গেছে, এক সময় গরুটির দাম ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, তবে সোহাগ তা বিক্রি করেননি।
সোহাগ জানান, ২০১৮ সালের শেষ দিকে তিনি ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন। সপ্তাহ না যেতেই গাভিটি একটি বাছুর জন্ম দেয়—এই বাছুরই এখনকার বিশাল আকৃতির ‘কালো মানিক’। ছয় বছর ধরে পরিবারসহ ভালোবাসা ও যত্নে লালন-পালন করেন তিনি।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সোহাগ একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। তার কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়েই আজকের এই কালো মানিক।