প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫, ৪:৫৬ পিএম

গত বছরের কোরবানির ঈদে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছিল একটি
ছাগল—মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা। সেই ছাগল ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পায় ‘
ছাগলকাণ্ড’ নামে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ছাগল এবং দুর্নীতির প্রেক্ষাপট এখনও গণচর্চার আলোচ্য।
প্রথমে সাদিক অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন দাবি করেন, ছাগলটি ‘ব্রিটল’ জাতের এবং তিনি তার খামার থেকে ভিডিওসহ ছবি পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে আছেন।
ছাগলটি পরে ১৫ লাখ টাকায় কিনে নেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মতিউর রহমান-এর পরিচয় দেওয়া এক যুবক মুশফিকুর। তিনি ছাগলের সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে—এতো ব্যয়বহুল ছাগল কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবার কিনতে পারে?
পরে
মতিউর রহমান দাবি করেন, মুশফিকুর তার ছেলে নন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য, গোপন সম্পদ এবং বিভিন্ন অনিয়ম। এর জেরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মতিউর, তার স্ত্রী লায়লা কানিজ, ছেলে তৌফিকুর ও মেয়ে ফারজানা রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং মতিউর ও লায়লা গ্রেপ্তার হন।
অবশ্য ছাগলটি মুশফিকুর হাতে না গিয়ে থেকে যায় সাদিক অ্যাগ্রোতে। ২০২৪ সালের জুনে মোহাম্মদপুরে সাদিক অ্যাগ্রোর খামারটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে অভিযোগে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর সেখানকার পশুগুলো সাভারে ফার্মের আরেক স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই সময় আবারও দেখা মেলে আলোচিত ছাগলটির।
সাদিক অ্যাগ্রো সূত্র জানিয়েছে, ছাগলটি এখনো সাভারের খামারে জীবিত রয়েছে। খামারের এক কর্মকর্তা বলেন, ছাগলটি এখনও আছে, বিক্রি না করে আমরা দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছি।
ছাগলটির ভাগ্যে কী আছে—তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে দেশজুড়ে আলোচিত এই ‘ছাগলকাণ্ড’ দুর্নীতির চিত্র উন্মোচনের এক প্রতীকী ঘটনা হিসেবে গণমানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর