
যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এলন মাস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট বিলকে ‘ঘৃণ্য বিরক্তিকর’ (Disgusting Abomination) বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি একে ‘অপচয় ও রাজনৈতিক ঘুষে ভরপুর কংগ্রেসীয় ব্যয় পরিকল্পনা’ বলেও কটাক্ষ করেন। মাস্কের এই সমালোচনা শুধু ডেমোক্রেট নয়, রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিরাজমান মতভেদের প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
গত মে মাসের শেষদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয় বিলটি, যার নাম দেওয়া হয়েছে “ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল”। এটি এখন সিনেট ভোটের অপেক্ষায়। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিশা হিসেবে দেখছে। কিন্তু বাজেটের আকার, বরাদ্দের ধরণ ও অস্বচ্ছতা ঘিরে সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে, যার মধ্যে রয়েছেন মাস্ক নিজেও।
প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ক্ষোভ উগরে দিলেন মাস্ক
মে মাসের ২৯ তারিখে মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি ছিলেন প্রেসিডেন্টের গঠিত Department of Government Efficiency (DOGE)-এর প্রধান। এই সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি খরচে অপচয় বন্ধ করা ও কার্যকারিতা বাড়ানো।
সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক একদিন আগে তিনি বাজেট বিল নিয়ে হালকা সমালোচনা করলেও ৩ জুন (মঙ্গলবার) তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন:
“আমি দুঃখিত, কিন্তু আর সহ্য করতে পারছি না। এই বিশাল, অবাধ্য, ঘুষে ভরা কংগ্রেসীয় ব্যয় পরিকল্পনা একটি ঘৃণ্য বিকৃতি। যাঁরা এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আপনাদের লজ্জা করা উচিত। আপনারা জানেন—আপনারা ভুল করেছেন।”
ট্রাম্পের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বাজেট বিল?
‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে পরিচিত এই বিলটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম রাজনৈতিক হাতিয়ার। এতে বড় কর্পোরেশন, সামরিক খাত এবং অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর জন্য বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অথচ জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা নিয়ে রক্ষণশীল মহলের মধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
বিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাজেট ঘাটতি আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় ঋণ বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।
তবে মাস্ক ও ট্রাম্পের মধ্যকার মতবিরোধ নতুন নয়। এর আগেও বাণিজ্যনীতি, ট্যারিফ আর জলবায়ু পরিবর্তনসহ একাধিক ইস্যুতে দ্বন্দ্ব দেখা গেছে। তবে বাজেট বিল নিয়ে মাস্কের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে বিদ্যমান মতভেদকে সামনে এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের আর্থিক নীতির ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে মাস্ক যখন সরকারের অপচয় বন্ধ করার দায়িত্বে ছিলেন, তখনই এমন একটি বিল পাস হওয়ায় তিনি নিজেকে "প্রতারিত" মনে করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও ভাঙন
শুধু মাস্কই নন, এই বিল নিয়ে কিছু রিপাবলিকান সিনেটরও নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—এই বিল নির্বাচনী স্বার্থে সাজানো, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতির ক্ষতি করবে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস বলছে, বিলটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।
মাস্কের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
এখন প্রশ্ন হলো, এলন মাস্ক এই বাজেট বিল ঠেকাতে কী ভূমিকা নেবেন? তিনি একাধারে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ধনকুবের, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং সামাজিক মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এই বিলের বিরোধিতায় জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
আল জাজিরা থকে অনূদিত
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ