
আগের মতো নেই কামার পাড়ার সেই পুরোনো আমেজ
ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র দুইদিন। তাই পশু কোরবানীর জন্য ছুরি, বটি ও দা তৈরি করতে কামারদের কাছে ক্রেতাদের ভিড় করার কথা হলেও এবার আর আগের মত সেই দৃশ্য চোখে পড়ছে না।
গতবারের চেয়ে তুলনায় এবার কাজকর্ম, ক্রয়-বিক্রয় খুবই কম হওয়ায় চিন্তিত কামার ও ব্যবসায়ীরা। তবে তারা আশা করছেন, এই দুই দিনে ব্যবসা ভালো হবে। পাঁচবিবি বাজার, ছাত্রিনালি,মোলান রশিদপুর, ফিচকাঘাট, বাগজানা, ধরঞ্জী বাজার ঘুরে কামার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
কামারের নিকট দা ও ছুরি শান দিতে আসা গোলাম মোস্তফা ইসলাম বলেন, “কোরবানীর ঈদের আর মাত্র দুদিন দিন বাকি। যার কারণে পশু কোরবানী দিতে ছুরি, বটি, দা শান করতে কামারের কাছে এসেছি। এবার এসব জিনিসের দাম একটু বেশি। যার কারণে দু’একটি জিনিসের প্রয়োজন হলেও তা না কিনে পুরানোগুলোই শান করিয়ে নিচ্ছি। আমার মতো অনেকেই একই কাজ করছে তারাও তাদের পুরানো জিনিসপত্রগুলি শান করিয়ে নিচ্ছেন।’’
ফিচকাঘাট বাজারের কামার সন্তোষ কর্মকার বলেন, “গতবছরের তুলনায় এবারে কাজকর্ম খুবই কম। লোহার দাম বেশি হওয়ায় মানুষ নতুন জিনিসপত্র কম কিনছেন। তারা পুরানো জিনিসপত্র যেগুলো রয়েছে সেগুলো শান করে নিতে আসছেন। এছাড়া আগে বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও হোটেলগুলোতে মানুষ খড়ি পুড়িয়ে রান্না করতেন। যার কারনে কম দামে কয়লা কিনতে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন মানুষ গ্যাসে রান্না করায় সেই কয়লা তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি আরো বলেন, ‘‘মৌসুম শুরু হওয়ায় কয়লার চাহিদা বাড়ায় কয়লার দাম বেড়েছে। গতবছর যে কয়লা প্রতিডালি ৫০-৬০ টাকা কিনেছিলাম। এবার সেই কয়লা দাম বাড়িয়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে নিচ্ছে। যার কারনে ছুরি দা বটি হাসুয়া শান দেওয়ার মজুরি একটু বেশি নিচ্ছি। তবে বেশি মজুরি চাইলে অনেকে তর্ক করেন। বছর জুড়ে অলস সময় বসে থাকলেও এই কোরবানীর ঈদের সময় বাড়তি কাজের চাপ থাকে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। এবার কাজের তেমন চাপ নেই।”
সন্তোষ কর্মকার বলেন, ‘‘বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না। আবার অন্য কোন কাজকর্মও ঠিকমত করতে পারিনি। সারাদিনে যে আয় হয় তা দিয়ে আমি, স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে কোনো রকম চলে যায়। তবে এখন যে আয় হয় সেই আয় দিয়ে দুবেলা ভাতেই জোটে না। আমার একমাত্র মেয়ে সাগরিকা কর্মকার মারা যাওয়ার পর এতিম নাতিকে স্কুলে পাঠাতে পারি না। বর্তমানে আমার নাতির লেখাপড়া বন্ধ আছে। মাঝে মাঝে কাজ বেশি থাকলে নাতি কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’’
লোহার তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রেতা রাসেল মন্ডল জানান, এখন পর্যন্ত একটি ছুরি, দা, বটি বিক্রি করতে পারিনি। শুক্রবার ঈদের শেষ হাটবার আছে। আশা করছি ওই দিন বেচাকেনা ভালো হবে। গতবছরের তুলনায় এবারে লোহা এবং কয়লার দাম একটু বেশি। কামারকে মজুরি বেশি দিতে হচ্ছে। হাড় কাটা দা চারশ’ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। আর মাংস কাটার বড় দা ২০০ ও ছোট দা ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরু জবাই করা ছুরি ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পিচ বিক্রি করছি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস