
ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছে মানবিক সহায়তা ও অধিকার রক্ষাকারীদের বহনকারী জাহাজ ‘ম্যাডলিন’। এ জাহাজে রয়েছেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ১২ জন কর্মী।
জাহাজটি ১ জুন ইতালির সিসিলির কাটানিয়া শহর থেকে রওনা দেয়। এটি গাজা উপত্যকার দিকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ৭ জুন পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যদি মাঝপথে কোনো বাধা না আসে। জাহাজটির অবস্থান ‘ফরেনসিক আর্কিটেকচার’-এর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্র্যাক করা হচ্ছে। ৩ জুন পর্যন্ত এটি সিসিলি থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
জাহাজে থাকা কর্মীরা হলেন:
গ্রেটা থুনবার্গ (সুইডেন)
রিমা হাসান (ফ্রান্স-ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য)
ইয়াসেমিন আকার (জার্মানি)
ব্যাপতিস্ট আন্দ্রে (ফ্রান্স)
থিয়াগো অ্যাভিলা (ব্রাজিল)
ওমর ফাইয়াদ (ফ্রান্স)
পাসকাল মরিয়েরাস (ফ্রান্স)
ইয়ানিস মুহামদি (ফ্রান্স)
সুয়াইব ওরদু (তুরস্ক)
সার্জিও তোরিবিও (স্পেন)
মার্কো ভ্যান রেনেস (নেদারল্যান্ডস)
রেভা ভিয়ার্ড (ফ্রান্স)
গ্রেটা থুনবার্গ বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের সামনে অনেক বাধা, তবুও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ আমরা চেষ্টা থামিয়ে দিলে, তখনই মানবতা হেরে যায়।’
কী বহন করছে 'ম্যাডলিন'?
স্বাধীনতা ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘ম্যাডলিন’ জাহাজে রয়েছে গাজাবাসীর জন্য জরুরি সহায়তা: ওষুধ, চাল, ময়দা, শিশুদের জন্য দুধ, ডায়াপার, নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী, পানিশোধন কিট, হুইলচেয়ার, ক্রাচ ও শিশুদের কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ।
আগের অভিযানগুলোর পরিণতি
এপ্রিল-মে মাসে 'কনসায়েন্স' নামের একটি সাহায্যবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়। এর আগে ২০১০ সালে ‘মাভি মারমারা’ নামের আরেকটি তুর্কি জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৯ কর্মী নিহত হয়।
২০০৭ সাল থেকে গাজা স্থল, নৌ ও আকাশপথে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের মুখে রয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্চ ২০২৫ থেকে গাজায় পূর্ণ মানবিক অবরোধ জারি করে ইসরায়েল। ফলে শিশুদের মধ্যে মারাত্মক পুষ্টিহীনতা ও মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
বর্তমানে গাজার ৯৩ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইপিসি (Integrated Food Security Phase Classification)।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামে সহায়তা বণ্টনের একটি কেন্দ্র চালু করলেও তা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ে। গত আট দিনে এই কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে ১০০-র বেশি মানুষ ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরা থেকে অনূদিত
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ