
রূপগঞ্জে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, পানিবন্দি অর্ধলাখ মানুষ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় টানা কয়েক দিনের বর্ষণে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। উপজেলার ২৫ টির বেশি এলাকায় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট, এমনকি মসজিদ ও কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে এলাকাবাসী বলছেন, অপরিকল্পিত সেচ প্রকল্প, পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট ও দখল এবং শিল্প কারখানার বর্জ্য ফেলে খাল বন্ধ করে দেওয়াই এই দুর্ভোগের মূল কারণ।
তারাবো, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, ইসলামবাগ, আমলাবো, বৌবাজার, মধ্যপাড়া, শান্তিনগর, কান্দাপাড়া, রূপসীসহ প্রায় ২৫টি এলাকায় এখন হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। বাড়ির ভেতরে ৩-৪ ফুট পানি ঢুকে গেছে অনেক জায়গায়। গবাদিপশু সরিয়ে নিতে হচ্ছে অন্যত্র। টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে খাল ভরাট করে সংস্কার কাজের বর্জ্য ফেলায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে তারাবো আল-ফালাহ জামে মসজিদে নামাজ পড়া যাচ্ছে না। এমনকি কবরস্থানে লাশ দাফন করাও সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় ইমাম মাওলানা খোরশেদ আলম বলেন, ‘বহু আবেদন করেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’
শিক্ষক রতন লাল বলেন, ‘রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি ক্রয় করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘর বাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’
নাগেরবাগ এলাকার বাসিন্দা পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘শিল্প কারখানার গরম পানি ও বর্জ্যে খাল ভরাট হয়ে গেছে, কালো পানিতে হাঁটলে চর্ম রোগ হচ্ছে।’
ইসলামবাগের গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, ‘ঘর থেকে বের হতে পারছি না, খাওয়া-দাওয়া ও রান্না বন্ধ। অনেক ভাড়াটিয়া এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রূপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গার সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের কাজ চলছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
স্থানীয়রা অবিলম্বে খাল খনন, নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল ও স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম