প্রকাশ: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ৯:৫৯ AM

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য রূপ নেয় এক দুঃস্বপ্নে। ৬ উইকেটে ১৯৬ রান করার পরও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ উইকেট ও ১৬ বল হাতে রেখে পরাজয়ের গ্লানিতে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ নিতে হয়েছে টাইগারদের। সিরিজে একটি ম্যাচেও জয় না পাওয়ায় সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে বেশ দাপট দেখায় বাংলাদেশ। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসানের ব্যাটে ৬৪ বলে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলের ভিত গড়ে দেন তারা। পাকিস্তানের মাটিতে সফরকারী কোনো ওপেনিং জুটির এটিই প্রথম শতরানের পার্টনারশিপ। ইমন ৩৪ বলে করেন ৬৬ রান, তানজিদ ৩২ বলে ৪২। পরে লিটন ও হৃদয় কিছুটা দৃঢ়তা দেখালেও শেষদিকে ইনিংসের গতি হারায় বাংলাদেশ। শেষ ৫৬ বলে আসে মাত্র ৮৬ রান।
প্রতিপক্ষের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিলেও সেটি রক্ষা করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটার মোহাম্মদ হারিস একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে। তার ব্যাটে ভর করেই ১৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
খেলার পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের হতাশা গোপন রাখেননি লিটন। বলেন, “অবশ্যই হতাশ। আমরা ভালো বোলিং করিনি। আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিং ও ফিল্ডিংও ভালো ছিল না। তবে সম্ভবত এই ম্যাচে ব্যাটিং খুব ভালো হয়েছে।”
সিরিজজুড়ে বোলারদের কৌশলগত ঘাটতির দিকেও আঙুল তোলেন লিটন। তার ভাষায়, “ভিন্ন ব্যাটসম্যানদের আলাদাভাবে সামলাতে জানতে হবে। একেকজনের শক্তি ও দুর্বলতা ভিন্ন। সেটা বুঝে বোলিং করতে হবে আমাদের।”
তবে দলের ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা সন্তোষ প্রকাশ করেন অধিনায়ক। “ইমন ও তানজিদ খুব ভালো শুরু করেছে। শুধু তারা নয়, বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে,” বলেন তিনি।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতা ও শরিফুল ইসলামের ইনজুরিকে হারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন লিটন। শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু পেলেও তা ধরে রাখতে পারেনি দল।
দুঃখজনক হোয়াইটওয়াশের পরও গ্যালারিতে পাওয়া ভালোবাসা ভুলে যাননি টাইগার অধিনায়ক। বলেন, “দর্শকরা অসাধারণ ছিল। দুই দলকেই সমর্থন করেছে, দারুণভাবে উপভোগ করেছে খেলা।”
সবশেষে লিটন কণ্ঠে অনুশোচনা নিয়ে বলেন, “বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে আমি সত্যিই দুঃখিত। আমরা কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। আশা করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াব।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর