
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের উদ্যোগে নতুন বনজ চারা রোপণের অংশ হিসেবে একটি কলাবাগানের সহস্রাধিক কলাগাছ কেটে ও উঠিয়ে সেখানে বনজ চারা রোপন করায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষক পরিবার।
শনিবার (৩১ মে) সকালে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের হালিম পীরসাহেবের চালা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
জমির দাবিদার কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, শতবর্ষ ধরে আমাদের পরিবার ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে। আমরা নিজের হাতে কলাগাছ লাগিয়েছি, যত্নও করেছি। ফল আসার সময় বন বিভাগ এসে বিনা নোটিশে কলা গাছ কেটে ও উঠিয়ে ফেলছে। এতে প্রায় ১ হাজার কলা গাছ নষ্ট হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে আমি ও আমার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এখন দিশেহারা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব সতর্কতা, আলোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমরা। যদি প্রমাণিত হয় যে জমিটি আমাদের নয়, তবুও ফলন তোলার সময় পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া যেত। কলাগাছ তুলে, ক্ষতি করে এখন যদি বলা হয় এটা বনভূমি, তাহলে আমাদেরকে এত বছর কেন কিছুই বলা হয়নি?
ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানান তিনি। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে আমাদের জীবন রক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীরা জানান, বিল্লাল পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে। হঠাৎ করে বন বিভাগের এই উদ্যোগ হতাশা জনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, আমরা চাই সরকার বন রক্ষা করুক তবে সেই বন যদি গরিবের পেটের ভাত কেড়ে নেয়, সেটা তো অন্যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, এর আগে তাদেরকে সর্তক করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি তারা আমলে নেয়নি। কিছু গাছ উঠানো হয়েছে। পরে তাদের অনুরোধে এবং বনের চারার কোন ক্ষতি না করার শর্তে কলাবাগানের ভিতর দিয়ে চারা রোপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রণী জানান, জমির দাবিদার মালিক ও বন বিভাগ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি