
ঈদুল আযহা সামনে রেখে কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে গরুর হাট
পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে কুড়িগ্রামের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসেছে অস্থায়ী ও স্থায়ী গবাদি পশুর হাট। হাটগুলোতে গরু ও ছাগল কেনাবেচায় জমজমাট পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ভারতীয় গরুর অবাধ অনুপ্রবেশে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়লেও এবার অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন তারা। দেশি গরুর চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়ছে, ফলে খামারিরা আশা করছেন ভালো দামে গরু বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট যাত্রাপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, চরাঞ্চল ঘেঁষা এই হাটে দেশি গরুর আধিক্য বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন খামারে লালনপালন করা ফ্রিজিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুও বিক্রি হচ্ছে। গরুর ওজন, বয়স ও জাতভেদে দামও তুলনামূলক বেশি থাকছে।
গরু বিক্রেতা মো. আসলাম হোসেন তালুকদার বলেন, ‘আমি প্রায় ৪ মণ ওজনের একটি দেশি গরু এনেছি যাত্রাপুর হাটে। দাম চাচ্ছি ৬৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ক্রেতারা ৬০-৬২ হাজার পর্যন্ত বলেছে। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো।’
একই হাটে গরু কিনতে আসা পাইকার মো. ইমরান সর্দার বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৮টি গরু কিনেছি। প্রতিটির দাম পড়েছে ৬৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। আশা করছি, লোকসান হবে না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি নিয়েও সন্তুষ্ট স্থানীয়রা। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, ‘হাটে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছে।’
যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার প্রতিনিধি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘সরকারি বিধি মেনে বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে রশিদের মাধ্যমে খাজনা (হাসিল) আদায় করা হচ্ছে। প্রতি ৫০০ টাকার গরুর ওপর নির্ধারিত হারে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি চলছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা বলেন, ‘জেলার সব উপজেলায় গরুর হাট বসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, জাল নোট লেনদেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায় কিংবা চুরি না ঘটে।’
স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি এবং দেশি গরুর চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামের পশুর হাটগুলোতে ঈদুল আযহা সামনে রেখে জমজমাট বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম