প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ৬:১৬ পিএম

কমলগঞ্জে আকস্মিকভাবে ধলাই নদীর পানি বেড়েছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢলের পানিতে কমলগঞ্জে আকস্মিকভাবে ধলাই নদীর পানি বেড়েছে। পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কমলগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ২ থেকে ৩ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ফলে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আজ শনিবার (৩১ মে) কমলগঞ্জ থানা সংলগ্ন পুরাতন ধলাই সেতু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সকাল থেকে ধলাই নদীর পানি বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা এলাকা দিয়ে মাধবপুর, আদমপুর, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, কমলগঞ্জ পৌরসভা, মুন্সিবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে দীর্ঘ ৫৪ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে মনু নদী মিলিত হয়েছে ধলাই নদীতে। এরমধ্যে অসংখ্য স্থানে আঁকা-বাঁকা হয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এসব ইউনিয়নের ২ থেকে ৩ টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, “ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানির কারণে ধলাই নদীর ৫৪ কিলোমিটার এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ আছে। তার আগেও নদীর বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে বন্যায় পরিণত হয়। ফলে কৃষি ও বসতঘরের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদি এখন আবার ভাঙে তাহলে আমরা মারাই যাবো। এখন আবার এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধের যেকোনো স্থান ভেঙে যেতে পারে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার পর্যবেক্ষক মো. রাসেল মিয়া বলেন, “উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় বেশি বৃষ্টি হওয়ায় গত শুক্রবার রাত থেকে কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পায়, তবে এখনও বিপদ সীমা অতিক্রম করেনি।”
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, “ধলাই নদীর পানি আকস্মিক বেড়ে যায়। তবে শনিবার ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ২৫০ সে:মি: নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতের কাজ করা হয়েছে। আপাতত বাঁধ ভাঙ্গার কোনো সম্ভাবনা নেই। উপজেলা প্রশাসন ধলাই নদীর পানি প্রবাহের দিকে সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস