
আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় পাঁচবিবি গো-হাট ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দেশীয় ও ভারতীয় গরুর সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা মাত্রই পশু কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে। তবে ভারতীয় গরুর ভিড়ে দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র খামারিরা। কারণ, অতিরিক্ত দামে গো-খাদ্য কিনে গরু মোটাতাজা করলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না অনেকেই।
সন্তা গ্রামের খামারি রাফি আহম্মেদ জানান, এবার ২৩ টি গরু পালন করেছেন তিনি, কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।
অন্যদিকে জাম্বুবান গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি বিদেশি জাতের ১৪টি গরু পালন করছেন। তিনটি বিক্রি করলেও তেমন লাভ হয়নি, তাই বাকি গরু আর বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব মতে, এবার উপজেলায় ৭৮ হাজার ৩১১টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন ব্যক্তি উদ্যোক্তাসহ স্থানীয় খামারিরা। আর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১৯ হাজারটি। চাহিদার তুলনায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৫১ হাজারের বেশি পশু। উপজেলায় বাণিজ্যিক কোনো খামার না থাকলেও ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ১ হাজার ৫৫৪টি পারিবারিক খামারে এসব পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
কোরবানি-যোগ্য গবাদিপশুর হিসাব হলো, ষাঁড়: ৭ হাজার ৬৫২ টি, বলদ: ৬৮৩ টি, বকনা: ৮ হাজার ২৫ টি, মহিষ: ৩৪ টি, ছাগল: ৩৪ হাজার ২৯৮ টি, ভেড়া: ১১ হাজার ৬১৮ টি।
সব মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৩১১টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, এসব পশু বিক্রয়ের জন্য ১৭-১৮টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সরকারিভাবে ‘পশুরহাট পাঁচবিবি, জয়পুরহাট’ নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এতে মূল্যসহ প্রতিদিন গরুর ছবি ও বিবরণ আপলোড করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা আকৃষ্ট হন এবং সহজে পশু কিনতে পারেন।
পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ উপজেলায় বিভিন্ন খামারে পর্যাপ্ত পরিমাণে কোরবানি-যোগ্য পশু রয়েছে। খামারিরা যেন তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান, সে জন্য ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু প্রবেশে কেন্দ্রীয়ভাবে কড়া নজরদারি বাড়ানোর জন্য বিজিবি ও পাঁচবিবি থানা পুলিশকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।’
জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাহিদ নেওয়াজ বলেন, ‘কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কিছু অসাধু গরু পাচারকারী চক্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অপতৎপরতা রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আভিযানিক তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম