প্রকাশ: শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫, ৪:১৬ পিএম আপডেট: ২৪.০৫.২০২৫ ৪:২৮ PM

পটুয়াখালীর দুমকিতে ৮০ লাখ টাকার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট। অভিযোগ রয়েছে, “গাজী এন্টারপ্রাইজ” নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভেকু মেশিনে রাস্তা কেটে অল্প বালু ফেলে ও রোলার ছাড়াই পচা ইট দিয়ে হেরিংবন্ড (এইচবিবি) সড়কের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে মান নিয়ন্ত্রণ ও টেন্ডার শর্ত মানা হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানান, টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী একনম্বর ইট ও নির্দিষ্ট পরিমাণ বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও কাজ শুরু থেকেই দুই-তিন নম্বর ইট ও কম বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালেও কোন কর্ণপাত করা হয়নি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা মানছেন না ঠিকাদারের লোকজন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মো. ইজাজুল হক সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের কাজ দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বন্ধের একদিন পরই একই মানের ইট দিয়ে আবারও কাজ শুরু হয়। ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ!
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিবির আওতায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫০০ মিটার করে মোট ১ কিমি এইচবিবি রাস্তার কার্যাদেশ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘গাজী এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক নুরুজ্জামান। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে রাস্তার উচ্চতা কমিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ করা হচ্ছে।
ঠিকাদার নুরুজ্জামান জানান, তিনি কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়েছেন আমির হোসেন ও জুয়েল নামের দুই যুবদল কর্মীকে। তিনি বলেন, ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী নিম্নমানের ইট সরিয়ে ভালো মানের ইট দিয়ে কাজ করতে তাদের নির্দেশ দিবেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। ২০ মে পাঠানো চিঠিতে এক নম্বর ইট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে বিল কেটে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজার মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘দুই নম্বর ইট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। খারাপ ইটের অংশ ভেঙে ভালোভাবে নতুন করে কাজ করতে হবে। অন্যথায় বিল আটকে দেওয়া হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম