প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ১২:১৬ AM

সিলেটের জাফলংয়ে হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে পিয়াইন নদীতে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে দ্রুত নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি করে। ফলে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা হঠাৎ করেই পানির নিচে চলে যায়।
নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
জাফলংয়ের অধিকাংশ পর্যটন এলাকা ইতোমধ্যেই তলিয়ে যাওয়ায় সকল পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাফলং ছাড়াও গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং কানাইঘাট উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও পানির প্রবল স্রোতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেট ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং আকস্মিক বন্যা সতর্কতা জারি করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সেনাবাহিনী এবং রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীতেও পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এসব নদীর পানি উপচে পড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নৌকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর