
বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি ছেড়ে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার আকাঙ্ক্ষায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে এসেছিলেন মুহাম্মদ উবায়দুল হক (জাবের উবায়েদ)। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর অফার লেটার সাসপেন্ড করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এই শিক্ষাবিদ।
সোমবার (১৯ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ তুলে ধরে তিনি লেখেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আমার সঙ্গে বড় ধরনের একটি অন্যায় আচরণ করেছে।
উবায়দুল হক জানান, তিনি ফেব্রুয়ারিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনে লেকচারার পদে আবেদন করেন। দুই দফা সাক্ষাৎকার, নথিপত্র জমাদানসহ সব প্রক্রিয়া শেষে ২৮ এপ্রিল তাকে নিয়োগের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় এবং ৯ মে আনুষ্ঠানিক অফার লেটার ইস্যু করা হয়।
জয়েনিং ডেট উল্লেখ ছিল ১ জুন। এইচআর প্রতিনিধি’র পরামর্শে তিনি ইউকে থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেন এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগপত্র দেন।
তিনি লেখেন, ‘আমি ১৪ মে পদত্যাগ করি এবং ২০ মে বাংলাদেশে ফেরার ফ্লাইট বুক করি। কিন্তু ১৫ মে আমাকে একতরফাভাবে জানানো হয় যে আমার অফার লেটার সাসপেন্ড করা হয়েছে- কোনো কারণ ব্যাখ্যা ছাড়াই।’
এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে উবায়দ বলেন, ‘অক্সফোর্ডে আমার রিপ্লেসমেন্ট নিয়োগ হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর ফেরার সুযোগ নেই। অথচ ব্র্যাক থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছি না।’
উবায়দ জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেকেন্ড মাস্টার্স করেন এবং যুক্তরাজ্যের UCL-এর Institute of Education-এ শিভেনিং স্কলার হিসেবে পড়াশোনা করেন।
তিনি পূর্বে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়েই ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এছাড়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আউটরিচ ডেলিভারি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ ও ‘অ্যাসেসমেন্ট অফিসার’ হিসেবে এক বছর কাজ করেন।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে জানতে চাইলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অফিস জানায়, ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ৫ অনুসারে যথাযথ বিবেচনার পর নিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ অভিযোগ রয়েছে কিনা- সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উবায়দুল হক দাবি করেন, তার মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি এবং ‘জুলাই বিপ্লব’ ঘিরে কিছু অ্যাক্টিভিজম তাকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন।
তিনি লেখেন, ‘যদি এমনই হয়, তবে সেটি স্পষ্টভাবে বলা উচিত ছিল। এই ধরনের গোপনীয়তা এবং একতরফা সিদ্ধান্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই সম্মানজনক নয়।’
‘আমি আর ব্র্যাকে জয়েন করবো না,’ বলে উবায়দ স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দেন। তবে এই ঘটনার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমার মতো একজনের সঙ্গে যদি এমনটা করা হয়, তাহলে আরও কতজনের সঙ্গে এমন হচ্ছে তা জানাও জরুরি।’
তিনি এই ঘটনার প্রতিকার চান এবং আশা করেন- ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এমন অন্যায়ের জবাব মিলবে।’
১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ৫ অনুসারে, কোনো পক্ষ যদি চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণের পূর্বে তা প্রত্যাহার করে নেয়, তবে সেটিকে আইনগতভাবে বৈধ ধরা হয়। তবে একটি অফার লেটার ইস্যু হয়ে যাওয়ার পর তা প্রত্যাহার করলে নৈতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রশ্ন ওঠে- বিশেষত তা যদি একতরফাভাবে এবং ব্যাখ্যা ছাড়া করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম