প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫, ৫:৩৯ পিএম

পিরোজপুরে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু লিফট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় হাসপাতাল ভবনটি এখনো গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ।
বর্তমানে ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০০-২৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বেড সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল খান বলেন, ‘আমরা ভালো সেবা পাওয়ার আশায় জেলা হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের বরিশাল, খুলনা বা ঢাকায় রেফার করা হয়। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি, অন্যদিকে অর্থেরও অপচয় হয়। দ্রুত নতুন ভবনটি চালু করার দাবি জানাচ্ছি।’
পিরোজপুরে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ৩১ শয্যা নিয়ে। ধাপে ধাপে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। রোগীর চাপ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ২০১৭ সালে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে এর সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতে ৭ তলা ভবন পরিকল্পনা থাকলেও পরে আরো ২ তলা বাড়িয়ে ৯ তলা করা হয়।
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে, গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে মেসার্স খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড হাসপাতালটি নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে, তবে করোনা মহামারির কারণে তিনবার সময় বাড়িয়ে শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘লিফট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভবন হস্তান্তরে কিছুটা জটিলতা হয়েছে। তবে লিফটের দাম বাড়ায় নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসে। আমরা সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন ভবনটি চালু হলে সেবার মান অনেক বেড়ে যাবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক হাসপাতাল ব্যবস্থার আশায় রয়েছেন তারা। হাসপাতালটি চালু হলে শুধু পিরোজপুর নয়, আশপাশের আরও দুই জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবার আওতায় আসবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম