স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে ৬ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এ অবস্থায় রপ্তানি পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শনিবার স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সুতা, সুতার উপজাত, আসবাবপত্র আমদানি নিষিদ্ধ করে ভারত। রবিবার থেকে এসব পণ্য রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক (আইবিসিসিআই) চেয়ারম্যান বলেন, ভারতের এই নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের ব্যবাসায়ীরা। তবে আগের এলসির পণ্য আমদানিতে সুযোগ চান ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ভারতের নিষেধাজ্ঞার ফলে এসব পণ্য রপ্তানিতে কয়েকগুণ খরচ বাড়বে। তবে পূর্বের এলসির পণ্য বেনাপোল দিয়ে রপ্তানিতে ভারতীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল দিয়ে ভারতে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে দিনেরটা দিনে যেত। এখন নদী পথে যেতে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৫ দিন। ফলে বাড়বে সময় ও খরচ। এতে ডেমারেজ হবে তাদের (ভারত)।
আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিনিধি রউফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না। দু-এক দিন পর বলা যাবে।
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যই বেশি। এ ছাড়া বিভিন্ন কম্পানি প্লাস্টিক পণ্য ও আসবাব রপ্তানি করে।
অবশ্য বাংলাদেশ থেকে মাছ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), ভোজ্যতেল ও ভাঙা পাথর আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেনি ভারত। পাশাপাশি ভারতের বন্দর ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
এর আগে, গত এপ্রিলে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে নিজ দেশের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পণ্য যাওয়ার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে ভারত। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি) এ সুবিধা বাতিল করে আদেশ জারি করেছিল।
২০২০ সালের ২৯ জুন এ-সংক্রান্ত এক আদেশে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রপ্তানিতে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের কলকাতা বন্দর, নবসেবা বন্দর ও কলকাতা বিমান কার্গো কমপ্লেক্স ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছিল সিবিআইসি। গত এপ্রিল থেকে সে সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত।
এরপর গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করে।
এখন স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারতীয় আমদানিকারকদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।