
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জন্য মানবিক করিডোর চালু কিংবা চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নয়।
শনিবার (১৭ মে) জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে করিডোর প্রদান কিংবা বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে শুধু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ বা সরকার।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখনো অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানে না। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রাজপথে অবস্থান নিচ্ছেন। মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে সরকারের ভেতর ও বাইরে অস্থিরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
তারেক রহমান হুঁশিয়ার করে বলেন, সরকার যদি জনগণের ভাষা, আশা ও আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে, যা সরকারকে সংকটে ফেলবে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এবং দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সরকারের সক্ষমতা নিয়ে সরাসরি নেতিবাচক মন্তব্য করেনি। কিন্তু জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কারের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও দ্বিমত না থাকলেও, তা বাস্তবায়নে যে ধরনের তড়িঘড়ি ও পরিকল্পনাহীনতা দেখানো হয়েছে, তা হিতে বিপরীত হয়েছে। আমরা সংবাদমাধ্যমে তার প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি।
সরকারকে ‘এলিট ক্লাব নয়, একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকা জরুরি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে এখনই সঠিক পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের তালিকা ১০ মাসেও চূড়ান্ত করতে না পারা কি সরকারের অক্ষমতা, নাকি শহীদদের বিষয়ে উদাসীনতা? এই প্রশ্ন এখন জনগণের মনে গভীরভাবে দানা বাঁধছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মোমিনুল আমিন, উচ্চ পরিষদ সদস্য পারভেজ খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মানে দোয়া ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর