প্রকাশ: শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫, ৮:২৯ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে করা প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের পোস্টে লাইক ও কমেন্ট করায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন মৎস্য অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.আবদুর রউফ গত ৪ মে ওই কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেসবুকে লাইক-কমেন্ট করার অভিযোগে নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তারা সাময়িক বরখাস্ত বা বদলির মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ এস এম সানোয়ার রাসেল, মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. সালমুন হাসান, আখাউড়ার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান, ইলিশসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. ফরিদ হোসেন এবং অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান আবু মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
গত ৪ মে এ পাঁচ কর্মকর্তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রউফ।
জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব) মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে পদোন্নতির সুপারিশ করে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমানের কাছে একটি ডিও লেটার পাঠান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
এরপর তোফাজ্জেল হোসেনের আগের কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে ১৪ এপ্রিল এক ফেসবুক পোস্টে তাঁর পদোন্নতির বিরোধিতা করেন জুলকারনাইন সায়ের খান। সেই পোস্টে ‘রিঅ্যাক্ট’ ও মন্তব্য করেন মৎস্য অধিদপ্তরের ওই পাঁচ কর্মকর্তা।
প্রতিটি নোটিশেই বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ অনুযায়ী কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—সে বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে।
নোটিশ পাওয়া দুজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জবাব দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মহাপরিচালক মো. আবদুর রউফ নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার কিংবা অস্বীকার করেননি। পরে আবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ