প্রকাশ: শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫, ৮:২৪ পিএম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে রত্না খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্বামী মাহবুব আলম টুটুলের (৩২) বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার (১৭মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মেছোপাড়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রত্না খাতুন একই গ্রামের আমোদ মল্লিকের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রত্না খাতুনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের বাহির বোয়ালদহ গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মাহবুব আলম টুটুলের প্রায় ৯ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ মশারি বিক্রেতা টুটুল। তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। এক বছর আগে প্রথম স্বামীর সংসার ছেড়ে রত্না খাতুন অন্যত্র বিয়ে করেন। সেখানে মাস খানের সংসার করার পর দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর এক সপ্তাহ আগে তিনি প্রথম স্বামী টুটুলের কাছে ফিরে আসেন।
নিহতের বোন মরিয়ম বলেন, গত রবিবার রত্না প্রথম স্বামীকে আবারো বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন টুটুল। কিন্তু দ্বিতীয় স্বামীর সাথে রত্নার এখনো সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতেন তার স্বামী টুটুল। এ নিয়ে প্রায় সময়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া, বিবাদ লেগে থাকতো। আজ শনিবার দুপুরেও দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এই সময় ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুল ধারালো ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হত্যা করে স্ত্রী রত্নাকে। এরপর সে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, মৃত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার বুকে ও পেটে ধারালো কোন কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ফুসফুসের আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ওই গৃহবধূর স্বামীও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই গৃহবধূর লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস