প্রকাশ: রবিবার, ১১ মে, ২০২৫, ৪:২৫ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা ও দুই মেয়াদ নির্ধারণের দাবি আবারও তুললেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ থাকবেন- এটা শুধু জনপ্রিয় দাবি নয়, এটা আমারও দাবি। তবে শুধু বললেই হবে না, যুক্তিসহ উপস্থাপন করতে হবে।’
আজ রবিবার (১১ মে) রাজধানীর আন্তর্জাতিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো সংস্কারে নাগরিক উদ্যোগ, নাগরিক কোয়ালিশন ও সংবিধান সংস্কারে নাগরিক জোটের সাত প্রস্তাবের ওপর এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
নতুন সংবিধানের বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সংবিধান প্রণয়ন
করে। সংবিধান পরিসর নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে। নতুন সংবিধান প্রণয়ন হতে
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে এমনও ধারণা আছে ৮-৯ বছর লেগেছে। নতুন সংবিধান
প্রণয়ন হতে বহুদিন লাগতে পারে। এখন আমি ৭২-এর সংবিধান কনটিনিউ করব? নতুন
সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান যে সংসদ থাকবে সে সংসদ সংবিধান
পরিচালক হিসেবে কাজ করবে। ৭২-এর সংবিধানের প্রয়োজনে অ্যামেনমেন্ড করবে।’
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদে বললে তো হবে না, আপনাকে কনভেন্সিং তর্ক করতে হবে। পৃথিবীর আর কোন কোন দেশে এটা আছে বের করেন। প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদ কোথাও নাই আসলে। ভারত বলেন, যুক্তরাজ্য বলেন কোথাও নাই। দুই মেয়াদ শুধু সমাধান না। সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাটা কমিয়ে নেওয়া।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘যে গণপরিষদ যখন কাজ করবে সে নতুন সংবিধানের কাজ করতে থাকবে। সেটি করতে ২-৩ বছর লাগতে পারে। এই ২-৩ বছর কি আমি ৭২-এর সংবিধান গ্রহণ করব? এই ২-৩ বছরের জন্য তারা যখন জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করবে থাকবে তখন তারা সংসদের কিছু ফান্ডামেন্ডাল যেমন-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, আর্টিকেল ১৭, উচ্চ আদালতের ডিসেন্ট্রালাইজেশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। এই ফান্ডামেন্টাল জিনিসগুলো জাতীয় সংসদ পরিবর্ত করতেই থাকবে।’
জুলাই সনদ সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা ধরেই নিয়েছি, সবাই জুলাই সনদের ওপর অনেক কিছুতে একমত হবেন। হয়তো এমনও হতে পারে জুলাই সনদের ফান্ডামেন্টাল কিছু জিনিস রাখা যেতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম