বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
ধলেশ্বরীর তীরে ইতিহাসের গর্ব, অবহেলায় জর্জরিত পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ১১ মে, ২০২৫, ৩:১৮ পিএম

টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি শিল্প, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হলেও অবহেলার কারণে হারাচ্ছে তার গৌরবময় অতীত।

প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই জমিদারবাড়িটি টাঙ্গাইল সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এখানে আজও দাঁড়িয়ে আছে কারুকার্যখচিত অট্টালিকা, পুরোনো মন্দির, নাটমন্দির, দীঘি ও কূপ- যা একসময়ের জমিদারি জীবনের নীরব সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে তৎকালীন ব্রিটিশ রাজধানী কলকাতার সঙ্গে মেইল স্টিমার ও যাত্রীবাহী নৌযোগে নাগরপুরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্র ধরেই কলকাতা থেকে আগত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ সাহা মণ্ডল এখানে জমিদারি শুরু করেন। ১৯১৫ সালে নির্মিত হয় পরপর ৩ টি বিশাল অট্টালিকা- একই নকশায়, পাশ্চাত্য শিল্পের প্রভাবে। জমিদারবাড়িটি পরিচিত ছিল ‘তিন তরফ’ বা ‘তিন মহলা’ নামে।

প্রতিটি অট্টালিকার সামনের বারান্দায় দুটি পূর্ণাঙ্গ সুন্দরী নারী মূর্তি, রেলিংয়ের কার্নিশে সারি সারি ক্ষুদ্র নারী মূর্তি এবং লতাপাতা-ফুলের অলংকরণে মণ্ডিত নকশা, সবই চমৎকার শৈল্পিক ছোঁয়া বহন করে। জমিদাররা তাদের প্রজাদের জুতা পায়ে বা মাথায় ছাতা নিয়ে বাড়ির সামনে দিয়ে চলাচলে নিষেধ করতেন-  এ থেকেই বোঝা যায় সে সময়কার আভিজাত্যের পরিমাণ।


জমিদারবাড়ির প্রবেশমুখেই রয়েছে একটি পুরোনো মন্দির, যা এককালে দুর্গাপূজার প্রতিমা নির্মাণে বিখ্যাত ছিল। ভারতবর্ষের খ্যাতনামা কারিগররা শরৎকালে এখানে প্রতিমা তৈরি করতেন। এখন সেখানে ইট খসে পড়ছে, নকশাগুলো ঝুঁকিতে। পাশাপাশি রয়েছে তিনটি নাটমন্দির ও মাঠের মাঝে একটি দ্বিতল নাচঘর।

পরে এ জমিদারবাড়ির মূল ভবনের একটি অংশ অধিগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকুটিয়া বিসিআরজি ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৭), যা এখনো চালু আছে। অন্য ভবনগুলোয় বর্তমানে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি দাতব্য সংস্থা ও তহশিল অফিস পরিচালিত হচ্ছে। তবে ভবনের অনেক জায়গায় ফাটল, খসে পড়া ছাদ, নষ্ট হয়ে যাওয়া শিল্পকর্ম প্রমাণ করে- এটি আজও যথাযথ সংরক্ষণের বাইরে।

নাগরপুরের এই ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রতিদিন অনেক পর্যটককে আকৃষ্ট করলেও, সরকারি উদ্যোগের অভাবে ভবনগুলোর রূপ-লাবণ্য হারিয়ে যাচ্ছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন একটি মহামূল্যবান সম্পদ যেন কালের গর্ভে বিলীন না হয়- এই দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।

পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি শুধু প্রাচীন স্থাপত্য নয়, এটি একসময়ের সংস্কৃতি, শাসন ও সমাজবিন্যাসের নিঃশব্দ সাক্ষ্য। যথাযথ সংরক্ষণেই ফিরতে পারে এর হারানো ঐতিহ্য।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম


আরও সংবাদ   বিষয়:  জমিদারবাড়ি   ইতিহাসের গর্ব  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close