
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ও খেতাবপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ ছিল সময়ের দাবি।’
গতকাল শনিবার (১০ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অলি আহমদ উল্লেখ করেন, গত বছরের ৮ আগস্ট এলডিপি সর্বপ্রথম এই দাবি তোলে। তাঁর ভাষায়, ‘আওয়ামী লীগই ছিল একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে গুম, খুন, দমন-পীড়নের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে ইসলামের ওপর বর্বরতা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের মতো ঘটনায় দলটির ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সেইসঙ্গে ভারতের স্বার্থরক্ষার নামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বও বারবার বিপন্ন হয়েছে।’
অলি আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে সরকার নজিরবিহীন নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই বর্বরতার বিরুদ্ধে আমরা বারবার বলেছি- এই দলটিকে নিষিদ্ধ করা ছাড়া জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।’
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে জাতি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন, তারা ইতিহাসের কাঠগড়ায় থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু একটি দলকে নিষিদ্ধ করলেই রাষ্ট্র শুদ্ধ হবে না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়েও জনআস্থাভিত্তিক ও নৈতিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও যোগ্য, নিরপেক্ষ ও জনমনে আস্থাভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনতে হবে।’
অলি আহমদ দেশের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সচেতন মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশকে বিদেশি প্রভাব, অনৈতিক রাজনীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক চক্রান্ত থেকে মুক্ত করতে এখনই সময় জাতীয় ঐক্য ও সাহসিকতা প্রদর্শনের।
তিনি জানান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে- একটি স্বাধীন, মর্যাদাসম্পন্ন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম