প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫, ৭:৪৮ পিএম আপডেট: ০৮.০৫.২০২৫ ৯:০৪ PM

পরকীয়ার অভিযোগে স্ত্রী রহিমা বেগমের (৩২) শরীরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিদগ্ধ করেন স্বামী নুরুল আলম (৪৭)। এসময় নুরুল আলম নিজেকে ও অগ্নিদগ্ধ করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চরপক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে ।
স্থানীয়রা দগ্ধ অবস্থায় রহিমা ও আলমকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতাল থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে রেফার করা হয়।
এসময় সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরুপ পাল জানান, রহিমার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ ও আলমের পা-হাত-বুকসহ শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নুরুল আলম জানান, কয়েক বছর আগে আলম একই ইউনিয়নের গাইয়ারচর এলাকার রহিমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আলম ধারদেনা করে একটি দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছেন। সেই সুযোগে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের কানিবগার চরের কাদির সিকদারের সঙ্গে রহিমা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালে ২২ জুলাই দোকান থেকে এসে তিনি কাদির ও রহিমাকে একা ঘরে দেখতে পায়। এ ঘটনায় পরে তিনি রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগসহ স্থানীয়দের জানান। কিন্তু ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। এরমধ্যে রহিমা তার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, কোথাও কোনো বিচার না পেয়ে প্রচণ্ড রাগের মাথায় উক্ত ঘটনা ঘটিয়েছেন। অপর দিকে চেষ্টা করেও অগ্নিদগ্ধ রহিমার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়। এর আগে দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালেও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, রহিমা উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের গাইয়ারচর এলাকার আব্দুল হামিদের মেয়ে ও আলম একই ইউনিয়নের চরপক্ষী গ্রামের আব্দুর মান্নানের ছেলে। উভয়ের এটি দ্বিতীয় বিবাহ বলে জানা গেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম