
চট্টগ্রাম র্যাব কার্যালয়ের এএসপি পলাশ সাহার আত্মহত্যার কারণ জানিয়েছেন তার মেজো ভাই নন্দলাল সাহা। তিনি জানান, পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলেন তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা। এর জন্য ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন এই কর্মকর্তা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট থেকেও এটাই ধারণা করা হচ্ছে।
পলাশ সাহা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ সাহার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘নিহত পলাশ সাহা নগরের চান্দগাঁও র্যাব-৭ ক্যাম্পে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি নগরের চান্দগাঁও এলাকায় বাসা নিয়ে থাকতেন। বাসায় তার মা ও স্ত্রী সঙ্গে থাকেন বলে আমরা জেনেছি। কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা ও মা আরতি সাহা পলাশের সঙ্গে চট্টগ্রামের বাসায় থাকতেন। তবে পলাশের স্ত্রী মেনে নিতে পারেননি তার মা তাদের সঙ্গে থাকাটা। এ জন্য তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া হতো। বুধবার সকালেও স্ত্রীর সঙ্গে মা ও পলাশের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পর পলাশ সাহা কর্মস্থল র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে চলে আসেন। সেখানে নিজ অফিসের চেয়ারে বসে নিজের নামে অস্ত্র ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে লিখে গেছেন একটি সুইসাইড নোট।’
এএসপি পলাশ সাহার মেজো ভাই নন্দ লাল সাহা বলেন, ২ বছর আগে ফরিদপুরের চৌধুরীপাড়ায় পলাশের বিয়ে হয়। বিয়ের ৬-৭ মাস পর থেকে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। প্রতিদিন কিছু না কিছু নিয়ে পলাশের স্ত্রী সুস্মিতা সাহা পরিবারে ঝামেলা করত। আমার মা আরতি সাহা পলাশের সঙ্গে চট্টগ্রামে থাকত; এটা পলাশের স্ত্রী মেনে নিতে পারত না। সে সব সময় মাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য পলাশকে চাপ প্রয়োগ করত। পলাশ কিছুতেই মাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে চাইত না। সে মা ও তার স্ত্রী দুজনকেই ভালোবাসতো।
তিনি বলেন, বুধবার সকালে সামান্য বিষয় নিয়ে আমার মা আরতি সাহা ও ভাই পলাশ সাহার গায়ে হাত তোলে সুস্মিতা সাহা। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি আমার ভাই। আর এ কারণেই আমার ভাই পলাশ সাহা আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।
বুধবার (৭ মে) র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের তৃতীয় তলার নিজ কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই সময় তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
চিরকুটে লেখা, ‘আমার মৃত্যুর জন্য মা এবং বউ কেউ দায়ী না; আমিই দায়ী। কাউকে ভালো রাখতে পারলাম না। বউ যেন সব স্বর্ণ নিয়ে যায় এবং ভালো থাকে। মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়ের ওপর। তারা যেন মাকে ভালো রাখে। স্বর্ণ বাদে যা আছে তা মায়ের জন্য। দিদি যেন কো-অর্ডিনেট করে।’
এ প্রসঙ্গে র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘র্যাব-৭ চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ক্যাম্পে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পলাশ সাহা অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণকালে তিনি অস্ত্র ইস্যু করে নিজের অফিস রুমে প্রবেশ করেন। তার কিছুক্ষণ পর একটি শব্দ শুনে কর্তব্যরত অন্য র্যাব সদস্যরা তাকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়। সেই সময় তার নামে ইস্যুকৃত পিস্তল নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং টেবিলে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ