প্রকাশ: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৪:১৭ পিএম আপডেট: ০৭.০৫.২০২৫ ৪:৩৩ PM

২২ এপ্রিল পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ হামলার ঘটনায় শুরু থেকে ভারত পাকিস্তানের ওপর দোষ দিয়ে আচ্ছে। পাকিস্তান প্রথম থেকে এই দায় অস্বীকার করে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহবান জানিয়েছিলো। তবে ভারত এবার সেই পেহেলগামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অভিযোগ এনে পাকিস্তানে আকস্মাৎ হামলা চালিয়েছে। আর মাঝরাতে পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘আপারেশন সিঁদুর’।
পাকিস্তানিদের ওপরে হঠাৎ করে পরিচালিত এই অভিযানের নাম ‘আপারেশন সিঁদু’ কেন রাখা হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, অপারেশন সিঁদুর নামটিতে সম্মতি প্রদান করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিকে গত ২২ এপ্রিল পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ হামলার মূল নিশানা ছিলো পর্যটকদের ওপরে। এই ঘনটায় কোনো নারী বা শিশুকে হত্যা করা হয়নি। হামলায় পুরুষদেরকে বেছে বেছে হত্যা করা হয়েছে। পেহেলগামে নিহতদের অধিকাংশই স্ত্রী-পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। স্ত্রীদের সামনেই তাদের স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। হামলার এই ধরনের কারণে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো একই সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, পেহেলগামের হত্যাকাণ্ডে যে সকল হিন্দু নারীরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের কপালের সিঁদুর মুছি দিয়েছে। ওই ঘটনার পর সদ্যবিধবা নারীদের করুণ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ভাইরাল হয়েছিল হরিয়ানার নৌবাহিনীর কর্মকর্তা বিনয় নওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী নরওয়ালের ছবি। উপত্যকার মাঝে স্বামীর নিথর দেহ আঁকড়ে তাঁকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঘটনার কয়েক দিন আগেই বিয়ে হয় তাদের। ওই ছবিটিই ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে, বলছেন পর্যবেক্ষকেরা। যদিও হিমাংশী এরপর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘তিনি বিচার চান তবে অশান্তি চান না।’
পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতের পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী বিবৃতিতে জানায়, কিছুক্ষণ আগে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করল। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কাঠামোগুলিকে আঘাত করা হয়েছে। যেখান থেকে ভারতে হামলার পরিকল্পনা এবং পরিচালনা করা হয়। সবমিলিয়ে ৯টি জায়গায় প্রত্যাঘাত করা হয়েছে।
তবে পেহেলগামে হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান। তারা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আমেরিকা, চিন, রাশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনীতির মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু মোদি সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছিলেন। তার পর ১৫ দিনের মাথায় ভারত পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদু’ পরিচালনা করে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম