প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ১০:১৪ পিএম

বিয়ের এক বছরের মাথায় জীবন যুদ্ধ থমকে গেছে কুড়িগ্রামের ২০ বছর বয়সী তরুণী নাজমিন নাহারের। হার্টের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। অসুস্থতা দেখে স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। পিতৃহারা নাজমিন এখন তার বিধবা মায়ের আশ্রয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
নাজমিন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত জাবেদ আলী ও মর্জিনা বেগমের পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে পঞ্চম সন্তান। এক বছর আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় রংপুরের এক গার্মেন্টস শ্রমিক খালেকের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করতেন নাজমিন।
কিন্তু ৫ মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নেন এবং পরে জানা যায় তার হার্টের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানান, উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা।
অভাবী পরিবারটি এ খরচ বহন করতে পারছে না। দুই ছোট ভাই এতিমখানায়, আর বিধবা মা দিনে আনে দিনে খায়। তাই চিকিৎসা তো দূরের কথা, নাজমিন এখন নিয়মিত ওষুধ কিনে খেতেও পারছেন না।
অসুস্থ নাজমিন বলেন, ‘আমার অসুখ দেখে আমার স্বামী ছেড়ে গেছে। আমার বাবাও নাই যে চিকিৎসা করবে। মায়ের সংসারে অভাব থাকার কারণে আমার দুই ভাই এতিম খানায় থাকে। উন্নত চিকিৎসা তো দূরের কথা, ঠিকমতো ঔষধ কিনে খাইতে পারছি না। তাই বলবো আমার চিকিৎসায় যদি কেউ দায়িত্ব নেয় তার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।’
নাজমিনের মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে মহা দুঃশ্চিতায় আছি বাবা। স্বামীও নাই যে চিকিৎসা করাবে। জামাই ছিল মেয়ের অসুখ দেখে ছেড়ে গেছে। কেউ যদি আমার মেয়েটার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতো সারাজীবন তার জন্য দোয়া করতাম।’
প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় এবং মেয়েটির দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তারা সরকারের পাশাপাশি হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বক্কর বলেন, ‘অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা নাজমিনের বিধবা মা। তার সুস্থতায় দরকার উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু অর্থের অভাবে তা হচ্ছে না। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি দেশবাসী সহযোগিতা করলে হয়তো সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম