
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্লেষকদের ধারণা বৃহস্পতিবারের এই দরপতনের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকোচনের ও সৌদি আরবের সরবরাহ বৃদ্ধি।
আজ বৃহস্পতিবার (১ মে) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৯ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬০.৪৭ ডলারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচার্সে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৬৫ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭.৫৬ ডলারে।
গতকাল বুধবার(৩০ এপ্রিল), মার্কিন অর্থনীতির সংকোচন ও সৌদি আরবের সরবরাহ বৃদ্ধির ইঙ্গিতে ২০১৪ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে ডব্লিউটিআইয়ের দাম, আজ যা আরও কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, সৌদি আরব তার মিত্র ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের জানিয়েছে, তারা সরবরাহ কমিয়ে তেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে নয় এবং দীর্ঘসময় কম দামে বাজারে সরবরাহ করতেও প্রস্তুত।
ওপেক প্লাসের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, এই জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ— জুন মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে মত দেবে।
দরপতনের পেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকোচন ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশৃঙ্খল বাণিজ্যনীতি বড় ভূমিকা রেখেছে ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক বাড়ার ভয়ে আমদানিকারকরা তড়িঘড়ি করে আমদানি বাড়ানোর কারণে এই সংকোচন ঘটেছে,যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতির নেতিবাচক প্রভাব।
রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি চলতি বছর মন্দার মুখে পড়তে পারে।
মিতশুবিসি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের বিশ্লেষক এহসান খোমান বলেন, "বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত শুল্কের নীতিমালা আগে থেকেই উদ্বিগ্ন (জ্বালানি তেলের) ট্রেডারদের আরও আতঙ্কিত করেছে, যারা বাজারে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত সরবরাহ নিয়ে চিন্তিত ছিল।"
রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য বিরোধ ও ওপেক প্লাসের সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তেলের দামে চাপ সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন জানায়, রপ্তানি ও শোধনাগারের চাহিদা বেড়ে যাওয়াই গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৭ লাখ ব্যারেল কমেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এসএইচবি