
দিগন্তজোড়া সোনালি ধান, চোখ যেদিকে যায় শুধু হলুদ আর সবুজের মিতালি। মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার মাঠজুড়ে এখন এমনই চিত্র। কৃষকের স্বপ্নের সোনার ধান পাকতে শুরু করেছে, কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে চরম শ্রমিক সংকট। এতে করে বোরো চাষিদের মাঝে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর কালকিনি ও ডাসারে মোট ১৫টি ইউনিয়নে প্রায় ১০,১৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত যেমনব্রী ধান ৮৯, ৯২, ১০২, ১০৪ ও নতুন জাত ব্রী ধান ১০৮-এর চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫,৯৯০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকরা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ মেনে উন্নত জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলে ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম ধান পাকতে শুরু করেছে, কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো ফসল প্রস্তুত হয়ে যাবে ঘরে তোলার জন্য।
তবে সমস্যা দেখা দিয়েছে ধান কাটার শ্রমিক সংকটে। প্রচণ্ড গরম আর বর্ধিত মজুরির পরও মিলছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। দিনে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি অন্যান্য জেলা থেকেও এবার তেমনভাবে শ্রমিক আসেনি। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ধান কাটতে শুরু করেছেন।
পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, ‘এই বছর ৯২ জাতের ধান চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যদি সরকার একটি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিত, তাহলে অনেক সুবিধা হতো।’
কৃষক মহানন্দো জানান, ‘পাকা ধান মাঠে পড়ে আছে, কিন্তু শ্রমিক নেই। তাপমাত্রা এত বেশি যে কাজ করা কঠিন। ঝড়-বৃষ্টির আগে ধান ঘরে তুলতে পারবো কি না তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানান, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বিশেষ করে নতুন জাত ব্রী ধান ১০৮ থেকে বিঘায় প্রায় ৩২ মণ পর্যন্ত ফলন আশা করা হচ্ছে। এতে ৮.৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রোটিন রয়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক সংকট কিছু এলাকায় থাকলেও কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত ধান কেটে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম