
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও মাজরা পোকা, ব্লাস্ট ও কারেন পোকার আক্রমণে ধানের বড় অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, কিছু কিছু জমিতে ৮০% পর্যন্ত ধান মরে গেছে, যা তাদের হতাশায় ফেলেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম থাকলেও রোগবালাইয়ের এমন আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাইকড়া, হাসড়া, সহদেবপুর, নারান্দিয়া, দুর্গাপুরসহ একাধিক এলাকার কৃষকরা। অনেকেই ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন। তবে অনেক কৃষকই জমিতে চিটা ধান দেখে দিশেহারা।
হাসড়া গ্রামের কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, ৪০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু এখন আশা করছেন, হয়তো ৫ মন ধানও হবে না। কৃষি ব্লক সুপারভাইজারদের কখনো মাঠে দেখা যায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একই অভিযোগ করেছেন আরও অনেক কৃষক। কারও কারও মতে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন। মুন্দইল গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, তার ৪৫ শতাংশ জমির প্রায় সব ধান মরে গেছে। এখন শুধু জমি পরিষ্কার করতেই কয়েক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
পাইকড়া ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও মাজরা ও ব্লাস্ট পোকার আশঙ্কা রয়েছে। ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত তিনি স্বস্তিতে নেই।
ধান কাটতে আসা রংপুর ও কুড়িগ্রামের শ্রমিকরাও জানাচ্ছেন, ধান কাটতে গিয়ে অনেক জমিতে চিটা ধান দেখতে পাচ্ছেন। অনেক মালিক তাদের পারিশ্রমিক দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ‘তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার কেউ কেউ জনবল সংকটের কথা বলছেন।’
মো. রাসেল বলেন, ‘আমি একাই পুরো ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করি। সহকর্মী অসুস্থ থাকায় চাপ বেশি।’
কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, ১৮,২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পিং করে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘৮০% ধান পেকে গেলে দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম