প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৪৩ পিএম

জম্মু-কাশ্মিরে গত ২২ এপ্রিল বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় সেনারা সেখানে অভিযান জোরদার করেছে। পেহেলগামে ওই ভয়াবহ হামলার পর কাশ্মিরের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও ধ্বংস করেছে।
আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি বসতবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। ভারতীয় সেনার দাবি, এগুলো বিদ্রোহীদের বাড়ি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এসব বাড়ির সাথে বিদ্রোহীদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক বিদ্রোহী বহু বছর আগেই পরিবার ছাড়েন, এমনকি অনেকে আর ফিরে আসেননি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এই নিরীহ পরিবারগুলোর দোষ কী? তারা তো কারো সাথেই জড়িত না। আমাদের বাড়ি শুধু প্রতিবেশী হওয়ার কারণে ধ্বংস হলো।’
ফারুক তিদা নামে এক সন্দেহভাজন বিদ্রোহীর বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে। তার পরিবার জানায়, ফারুক ১৯৯০ সালের দিকে পাকিস্তানে চলে যান এবং আর কখনো ফিরে আসেননি। তবুও সম্প্রতি তার পারিবারিক বাড়িটি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনারা।
এ বিষয়ে ফারুকের এক আত্মীয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারত এখন ইসরায়েলের মতো কৌশল নিচ্ছে। বাড়ি ধ্বংস করে সাধারণ মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে।’
এছাড়া, পুলওয়ামা অঞ্চলে আহসান শেখ নামে আরেক বিদ্রোহীর বাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানেও পাশে থাকা আরও অন্তত ১২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা নামাজ পড়ছিলাম, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। আমার বাড়ি এবং আশেপাশের বাড়িগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। আমরা তো কিছুই করিনি।’
হামলার পর থেকে কাশ্মিরজুড়ে চলছে গণগ্রেপ্তার অভিযান। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম