প্রকাশ: শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৪৬ AM

যশোর সদর উপজেলায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। কেউ মাঠে ধান কাটছেন, কেউ কেই ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। এমন চোখ জুড়ানো দৃশ্য এখন যশোরের মাঠে মাঠে।
অন্যদিকে, কৃষকের বাড়ির উঠোনে চলছে ধান ঝাঁড়ার কাজ। দম ফেলার সময় নেই কৃষক পরিবারে।
এবছর ধানের ভালো ফলন পেয়ে খুশি কৃষক। ঝড়-বৃষ্টির আগেই ধান কাটা শেষ করতে না পারলে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। যশোর শহরের আশেপাশের বিস্তীর্ণ মাঠের বুক জুড়ে সোনালী ধানের সমারোহ দোলা দিচ্ছে কৃষকের মনে। কিন্তু আকাশের কালো মেঘ, যেকোনো সময় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির আশঙ্কা, চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তাদের কপালে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কেটে বাড়ি নেয়া ও ঝেঁড়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষানীরা। অনেক স্থানে মাঠেই চলছে ধান মাড়াই। অনেক কৃষক ধান ঝাঁড়ার মেশিনের সাহায্যে ধান ঝেঁড়ে বস্তা ভরে ঘরে তুলছেন।
শুক্রবার সকালে যশোর সদরের ঘুরুলিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়- একদল শ্রমিক ধান কাটায় ব্যস্ত। আরেক দল সেই ধান বাঁধছেন। পাশের ক্ষেতের বেঁধে রাখা ধান মাথায় করে বাড়িতে নিচ্ছেন আরেক দল শ্রমিক।
ঘুরুলিয়া গ্রামের চাষী রহমত উল্লাহ জানান- কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির হাত থেকে ধান রক্ষায় আগেভাগেই ধান কাটা শুরু করেছি। ধান মেশিনের সাহায্যে ঝেঁড়ে নিয়েছি। এতে সময় কম লেগেছে।
আরেক কৃষক আসমত বলেন- আজ দুইদিন ধরে থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। শুনতেছি এরকম বৃষ্টি আরো ৪-৫ দিন ধরে হতে পারে। তাছাড়াও বড় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। প্রায় প্রতিদিন আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে। কখন না জানি ঝড়-বৃষ্টিতে মাঠের ধান নষ্ট হয়ে যায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধান কেটে ঘরে তুলছি।
ঘুরুলিয়ার কয়েকজন কৃষক জানান- এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। বিঘায় ২০-২৫ মণ হারে ধান হয়েছে। বাজারে দামও মোটামুটি ভাল আছে। এবার ধান কাটায় শ্রমিক সংকট নেই।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম খালিদ সাইফুল্লাহ জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলনও বেশ ভালো। কয়েকদিন ধরেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ঝড়, শিলাবৃষ্টির হাত থেকে রক্ষায় শতকরা আশি ভাগ ধান পাকলেই দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর