প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:১৩ পিএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৫ ৭:২৩ PM
‘নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল’ শিরোনামে স্বদেশ প্রতিদিনে খবর প্রকাশের পর টনক নড়েছে উপজেলা প্রকৌশলীর। নিজের দায় এড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে এ ঘটনার পর শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নয়াপাড়া এলাকায় সরেজমিনে কাজের মান পরির্দশনে আসেন বরগুনা এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামসহ একটি টিম। এর আগে গতকাল রাতেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট সামগ্রী সড়িয়ে নেওয়ার নোটিশ দেয় উপজেলা প্রকৌশলী।
এলজিইডি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের মালিপাড়া থেকে নয়াপাড়া পর্যন্ত ১১০০ মিটার সড়ক নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। দরপত্রে অংশগ্রহণ করে কাজটি পায় মেসার্স এনামুল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠানকে ওই কাজের কার্যাদেশ ওই রাস্তার কাজে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
জানা গেছে, মালিপাড়া থেকে নয়াপাড়া সড়কের নির্মাণকাজ এলজিইডি'র আওতায় চলছিলো। এ কাজের তদারকি’র দায়িত্ব উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর। সড়ক নির্মাণের কাজটিতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা নিম্নমানের কাজ বন্ধের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনে খবর প্রকাশিত হয়। এতে উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন নিজের দায় এড়াতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট সামগ্রী আগামী তিন দিনের ভেতরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে ঝাড়ু মিছিলের নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পরে ঘটনাস্থল পরির্দশন করে বরগুনা এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামসহ একটি টিম। এসময় তিনি নিম্নমানের ইট সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন ও ইট পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে যান। একই সাথে কাজের বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথেও কথা বলেন। পরবর্তীতে ভালো মানের সামগ্রী দিয়ে কাজের আশ্বাস দেন।
এবিষয়ে এনামুল এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল বলেন, আমি এখনো কোনো নোটিশ পাইনি। তবে জেলা থেকে পরির্দশনে এসে নিম্নমানের ইট সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাই তাদের সম্মানে এগুলো সরিয়ে নিচ্ছি।
উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়েছি। তিনি এখনো পাননি তা আমি জানি না। তবে এখানে দায় এড়ানোর বিষয় না। এ বিষয়ে সামনাসামনি আসেন কথা বলি।
পরির্দশনে আসা বরগুনা এলজিইডি’র সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর