প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:১০ পিএম আপডেট: ১৭.০৪.২০২৫ ৮:০২ PM

এক সময়ের চেনা-পরিচিত শব্দ ঢেঁকির “ঢপ ঢপ” আওয়াজে ভোর হতো গ্রামীণ বাংলার দিনগুলো। বিশেষ করে, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঢেঁকি ছিল যেন প্রতিটি বাড়ির অপরিহার্য অংশ। ধান ভানা থেকে শুরু করে চাল তৈরি ও মসুর ডাল কোটা প্রায় সবই হতো এই কাঠের তৈরি যন্ত্রে।
কিন্তু প্রযুক্তির আগমন ও এর নিয়মিত ব্যবহারে আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার এই পুরনো যন্ত্র ঢেঁকি। নাগরপুরে এখন এই ঢেঁকির দেখা মেলা যেন ভাগ্যের ব্যাপার।
একটা সময় ছিল যখন ঢেঁকি কেবল মাত্র একটি যন্ত্র ছিল না, এটি ছিল গ্রামীণ নারীদের শ্রম, ভালোবাসা ও পারিবারিক জীবনের অংশ। পরিবারের মেয়ে-বউরা একসাথে বসে ঢেঁকি চালাতেন, গল্প করতেন, হাসতেন। যা তৈরি করতো এক সামাজিক মিলবন্ধন। খাঁটি চাল, ভাঙ্গা ডাল সবকিছুতেই ছিল এই ঢেঁকির ছোঁয়া।
নাগরপুরের এক বয়স্ক নারী রহিমা খাতুন এ বিষয়ে বলেন, আগে সকালে ঢেঁকির শব্দ না শুনলে ঘুম ভাঙত ঠিকমতো না। আর এখন তো শুধু টিভিতেই কেবল ঢেঁকি দেখা যায়। বর্তমানে আধুনিক ধান ভাঙ্গার মেশিন সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় সময়ও কম লাগে। যার ফলে শ্রম নির্ভর ঢেঁকির ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে দ্রুত।
জানতে চাইলে নাগরপুরের তরুণ হাসান এ বিষয়ে বলেন, আমার দাদির মুখে ঢেঁকির গল্প শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কখনো দেখি নি। বর্তমানে সব কাজই মেশিনে হয়।
গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে রয়েছে এই ঢেঁকি। অথচ এই ঐতিহ্য রক্ষায় নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগ। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠকরা বলছেন, ঢেঁকি সংরক্ষণের জন্য বিদ্যালয়ে প্রদর্শনী, মেলায় ঢেঁকি চালানোর প্রতিযোগিতা কিংবা স্থানীয় যাদুঘরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সংস্কৃতিবিদরা জানান, নিজেদের ঐতিহ্যকে যদি আমরা মূল্য না দেয়, তাহলে একদিন হয়তো আমাদের সন্তানেরা শুধুই বইয়ে এসবের কথা পড়বে।
নাগরপুরসহ দেশের নানা গ্রামে ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। এটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, আমাদের শিকড়ের সাথে জড়িয়ে থাকা একটি স্মৃতি, একটি ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি